হোম > জীবনধারা > ফিচার

৩৫ বছরে সাফল্য চান? জেনে নিন উপায়

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

৩০ বা ৩৫ বছর জীবনের একটি মাইলফলক। এ সময় নিজের মনের খোরাক মেটানো দরকার। মডেল: অদিতি, ছবি: হাসান রাজা

সবার জীবনের গতিপথ ভিন্ন। কারও জন্য যা বড় অর্জন, অন্যের জন্য তা মনে হতে পারে নিছকই বিলাসিতা। জীবনে ৩০ বা ৩৫ বছর বয়সকে আমরা একটা মাইলফলক হিসেবে ধরে থাকি। এই সময়ের মধ্যে নিজের এবং নিজের মনের খোরাক মেটাতে আসলে কী কী করতে পারি? সাম্প্রতিক সময়ে এটি বেশ জনপ্রিয় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবন আপনার, তাই জীবনের নিয়মগুলোও আপনার হওয়া উচিত। তবে এই সময়ের মধ্যে জীবনকে একটু অন্যভাবে চিনতে কিছু বিষয় জেনে নিতে পারেন।

নিজের যত্ন নেওয়া

ব্যস্ত জীবনের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে না ফেলে নিয়মিত নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করুন। মাসে অন্তত একবার পেশাদার ম্যাসাজ নিয়ে শরীরের ক্লান্তি দূর করার পাশাপাশি মাঝেমধ্যে নিজেকে ছোটখাটো কিছু উপহার দিন। এসবের জন্য অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। নিজের আত্মমর্যাদা বোধ জাগিয়ে তোলা এবং নিজের প্রতি ভালোবাসা বাড়ানোই হলো প্রকৃত ভালো থাকার মূল চাবিকাঠি।

পোশাকের স্বাধীনতা

অন্যের চাপিয়ে দেওয়া কোনো স্টাইল নয়, বরং নিজের পছন্দমতো পোশাক পরুন। সেটি হতে পারে ঢিলেঢালা পোশাক বা কোনো ফরমাল ড্রেস—যেটিতে আপনি নিজেকে আত্মবিশ্বাসী মনে করেন, সেটিই পরুন।

সঠিক ভঙ্গিতে বসা ও দাঁড়ানো

শারীরিক সুস্থতার জন্য সোজা হয়ে বসার অভ্যাস করুন। এটি মেরুদণ্ড ঠিক রাখার পাশাপাশি আপনার আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে। দীর্ঘক্ষণ একনাগাড়ে বসে না থেকে মাঝে মাঝে বিরতি নিন।

প্রিয়জনকে ভালোবাসার কথা বলুন

আপনার বন্ধু, পরিবার কিংবা প্রিয় কোনো পোষা প্রাণী, যাদের আপনি ভালোবাসেন, মুখ ফুটে তাদের সে কথা জানান। সম্পর্ক সুন্দর রাখতে এর বিকল্প নেই।

লাইভ কনসার্ট বা অনুষ্ঠান উপভোগ করুন

জীবনের কোনো এক পর্যায়ে সরাসরি গান বা বাদ্যযন্ত্রের অনুষ্ঠান উপভোগ করুন। ছোট কোনো মঞ্চ হোক বা বড় কোনো গ্যালারি, লাইভ মিউজিকের কম্পন অনুভব করা এক অনন্য অনুভূতি। এটি আপনার মনের গুমোট ভাব দূর করতে সহায়ক হবে।

রান্না করতে শিখুন

জীবনধারণের জন্য অতি সাধারণ কিছু রান্নার কৌশল শিখে রাখুন। নিজের পছন্দের কোনো খাবার নিজে তৈরি করতে পারা আপনাকে আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে। তা ছাড়া এটি একধরনের থেরাপি হিসেবে কাজ করে আপনার মানসিক প্রশান্তি বাড়াবে এবং জীবনের ছোট ছোট অর্জনে আনন্দ খুঁজে পেতে সাহায্য করবে।

ভ্রমণ ও অজানাকে চেনা

নিজের চেনা গণ্ডির সীমাবদ্ধতা ছাড়িয়ে অজানার সন্ধানে বেরিয়ে পড়ুন। নতুন জায়গা, বিচিত্র মানুষ আর তাদের ভিন্নধর্মী জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় আপনার মনকে করবে উদার। এটি পৃথিবী সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে।

আবেগ প্রকাশ করুন

সব সময় শক্ত থাকার প্রয়োজন নেই। মনের ভেতর জমে থাকা কষ্ট বা চাপ দূর করতে মাঝেমধ্যে একান্তে মন খুলে কাঁদুন কিংবা হাসুন। এটি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

অন্যের দায়িত্ব নেওয়া

অন্তত একবার কারও শিশু বা পোষা প্রাণীর দেখভালের দায়িত্ব নিয়ে দেখুন। এটি আপনাকে ধৈর্য ধরতে শেখাবে এবং অন্যের প্রতি দায়িত্বশীল হতে সাহায্য করবে।

সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করুন

সম্ভব হলে ৩৫ বছর বয়সের আগে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি আপনার ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করবে। তবে এটি করতে না পারলেও ভেঙে পড়ার কিছু নেই। কারণ, সবার জীবন ও সুযোগ এক রকম নয়।

একটি কথা মনে রাখা প্রয়োজন, এই লেখায় যে তালিকা দেওয়া হলো, তা কোনো বাধ্যতামূলক নিয়ম নয়। সবার আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এক নয়। কারও হয়তো ৩৫ বছরে নিজের বাড়ি কেনার সামর্থ্য হবে, কারও হয়তো হবে না—তাতে জীবন থেমে থাকে না। জীবন উপভোগ করার মূল চাবিকাঠি হলো নিজের সুবিধামতো আনন্দ খুঁজে নেওয়া। আপনি আপনার জীবন যেভাবে কাটাতে চান, সেভাবেই কাটান। কারণ, দিন শেষে আপনার জীবনের গল্পটা আপনাকেই লিখতে হবে। অন্য কেউ তা করার অধিকার রাখে না। তবে ৩০ বা ৩৫ বছরের মাইলফলক হাতছাড়া করবেন না।

সূত্র: মিডিয়াম ও অন্যান্য

শিশুকে সফল হিসেবে দেখতে চান? শুরু হোক ঘরের কাজ দিয়ে

কখন বলবেন, ‘হে বন্ধু বিদায়’

মন ভালো রাখবে ডোপামিন ডায়েট

সকালের নাশতায় কলা খাবেন কি না, খেলেও কয়টি খাবেন

এখনো পৃথিবীর যেসব দেশে রাজতন্ত্র চালু রয়েছে

যে ১০ বিষয়ে কখনো অপরাধবোধে ভুগবেন না

পোস্ট-ভ্যাকেশন ব্লুজ: ছুটি থেকে ফিরে কাজে মন দেবেন যেভাবে

সতর্কভাবে ঈদ-পরবর্তী ডায়েট পরিকল্পনা করুন

এখন ঘুমের রুটিনে ফেরার ১০ উপায়

উৎসবে সাজিয়ে তুলুন অন্দরমহল