হোম > জীবনধারা > জেনে নিন

আর্টেমিস ২ মিশনের ১০ দিনের যাত্রায় যা করবেন মহাকাশচারীরা

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 

আজ থেকে শুরু হয়েছে নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস ২ মিশন। ছবি: নাসা

নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস ২ মিশন শুরু হয়েছে আজ; অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে। চারজন মহাকাশচারী চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে ১০ দিনের অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। নভোচারীরা হলেন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। এই মিশন আর্টেমিস প্রোগ্রামের প্রথম মানুষবাহী মিশন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো, ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থাগুলো পরীক্ষা করা এবং ভবিষ্যতে মানুষকে চাঁদে স্থায়ীভাবে বসবাস এবং মঙ্গল গ্রহে পাঠানোর পথ প্রশস্ত করা।

প্রথম দিন: যাত্রা ও প্রাথমিক পরীক্ষা

উৎক্ষেপণের প্রায় ৮ মিনিট পর ওরিয়ন মহাকাশে পৌঁছাবে আর্টেমিস ২। প্রথম দিন মহাকাশচারীরা মহাকাশযানের ভেতরের টয়লেট, পানীয় জল এবং বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণের ব্যবস্থাগুলো পরীক্ষা করবেন। তাঁরা তাঁদের স্পেস স্যুট খুলে সাধারণ পোশাকে চলাফেরা শুরু করবেন এবং থাকার জায়গা গুছিয়ে নেবেন। ওরিয়নকে একটি ডকিং টার্গেটের চারপাশ দিয়ে চালিয়ে এর নিয়ন্ত্রণক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে। ৮ দশমিক ৫ ঘণ্টা পর নভোচারীরা কিছু সময়ের জন্য ঘুমিয়ে নেবেন।

আর্টেমিস ২ মিশনের চার মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং জেরেমি হ্যানসেন। ছবি: নাসা

দ্বিতীয় দিন: চাঁদের পথে যাত্রা

এদিন মহাকাশচারীরা ব্যায়ামের সরঞ্জাম পরীক্ষা করবেন। তাঁদের দিনের প্রধান কাজ হলো ট্রান্সলুনার ইনজেকশন বার্ন। এটি ওরিয়নের ইঞ্জিনকে এমনভাবে সচল করবে, যাতে যানটি পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে চাঁদের দিকে রওনা দেয়। এই দিন থেকে পৃথিবী থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ শুরু হবে।

তৃতীয় দিন: গতিপথ সংশোধন ও মহাকাশে চিকিৎসা মহড়া

চাঁদের পথে ওরিয়ন ঠিকঠাক আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ইঞ্জিন পরীক্ষা করা হবে। মহাকাশচারীরা মহাকাশে কীভাবে সিপিআর দিতে হয়, তার মহড়া দেবেন। এ ছাড়া ব্লাড প্রেশার মনিটর, স্টেথোস্কোপসহ বিভিন্ন মেডিকেল কিট পরীক্ষা করবেন। ষষ্ঠ দিনে চাঁদের সবচেয়ে কাছে যাওয়ার সময় তাঁরা যে বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ করবেন, তার মহড়াও এদিন সেরে নেওয়া হবে।

চতুর্থ দিন: চন্দ্রপৃষ্ঠের ছবি তোলার প্রস্তুতি

ওরিয়নের জানালা দিয়ে মহাকাশের ছবি তোলার জন্য বিশেষ সময় বরাদ্দ থাকবে। মহাকাশচারীরা চাঁদের নির্দিষ্ট কিছু ভৌগোলিক এলাকার মানচিত্র নিয়ে পড়াশোনা করবেন, যাতে ষষ্ঠ দিনে তাঁরা সেগুলোর সঠিক ছবি ও ভিডিও নিতে পারেন।

পঞ্চম দিন: চাঁদের মহাকর্ষ বল ও স্পেস স্যুট পরীক্ষা

এদিন ওরিয়ন এমন এক জায়গায় পৌঁছাবে, যেখানে পৃথিবীর চেয়ে চাঁদের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি বেশি অনুভব হবে। দিনটি মূলত ওরিয়ন ক্রু সারভাইভাল সিস্টেম বা বিশেষ কমলা রঙের স্পেস স্যুটগুলো পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট থাকবে। জরুরি অবস্থায় এই স্যুটগুলো ৬ দিন পর্যন্ত মহাকাশচারীদের জীবন বাঁচাতে পারে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে।

ষষ্ঠ দিন: চাঁদের সবচেয়ে কাছে

এটি মিশনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দিন। ওরিয়ন চাঁদের উল্টো পিঠ দিয়ে যাওয়ার সময় পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার মাইল দূরত্বের মধ্যে থাকবে। অভিযাত্রীরা চাঁদের এমন কিছু অংশ দেখবেন, যা আগে কোনো মানুষ সরাসরি দেখেনি। চাঁদের পেছনে থাকার জন্য এদিন নভোযানটি পৃথিবীর সঙ্গে ৩০ থেকে ৫০ মিনিট যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে। সেই সময় নভোচারীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করবেন।

সপ্তম দিন: ফেরার পথে যাত্রা

চাঁদের মায়া কাটিয়ে ওরিয়ন পৃথিবীর দিকে যাত্রা শুরু করবে। বিজ্ঞানীরা মহাকাশচারীদের অভিজ্ঞতার কথা শুনবেন। দিনের দ্বিতীয় ভাগে ইঞ্জিন চালিয়ে পৃথিবীর দিকে ফেরার সঠিক পথ নিশ্চিত করা হবে। এই দিনের বাকি সময়টি তাঁদের বিশ্রামের জন্য বরাদ্দ।

অষ্টম দিন: বিকিরণ থেকে সুরক্ষা ও ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ

মহাকাশে ক্ষতিকর বিকিরণ বা সোলার ফ্লেয়ার থেকে বাঁচতে ওরিয়নের ভেতরে কীভাবে অস্থায়ী সুরক্ষা বা শেল্টার তৈরি করতে হয়, মহাকাশচারীরা তার মহড়া দেবেন। এ ছাড়া তাঁরা হাতে চালিত পদ্ধতিতে মহাকাশযানটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে পরীক্ষা করবেন।

নবম দিন: অবতরণের প্রস্তুতি

পৃথিবীতে ফেরার আগে যাবতীয় প্রস্তুতি শেষ করা হবে এদিন। নভোচারীরা ফ্লাইট কন্ট্রোল টিমের সঙ্গে অবতরণের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করবেন। মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ফেরার পর মাধ্যাকর্ষণের কারণে মাথা ঘোরাসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা হতে পারে। তা প্রতিরোধে বিশেষ পোশাকগুলো পরে পরীক্ষা করা হবে।

দশম দিন: পৃথিবীতে প্রত্যাবর্তন

মিশনের শেষ ধাপ। ওরিয়নের সার্ভিস মডিউলটি আলাদা হয়ে যাবে এবং ক্রু মডিউলের হিট শিল্ড বা তাপ নিরোধক বর্মটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ৩ হাজার ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপ থেকে মহাকাশচারীদের রক্ষা করবে। এরপর একে একে প্যারাস্যুট খুলে যানের গতি কমিয়ে আনা হবে। সবশেষে প্রশান্ত মহাসাগরে ওরিয়ন অবতরণ করবে। সেখান থেকে নাসা ও মার্কিন নৌবাহিনী তাদের উদ্ধার করবে।

সূত্র: নাসার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

বিষণ্নতায় ভুগলে ওজন কমানো কঠিন হয় যেসব কারণে

আজকের রাশিফল: পৃথিবীটা একটু ত্যাড়া—তাই বলে ডিপ্রেশনে যাওয়ার কিছু নেই

তরমুজের নাম বেঙ্গল টাইগার! জেনে নিন তরমুজের ইতিহাস, পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং পাকা তরমুজ চেনার উপায়

চৈত্র মাসে যেভাবে ঘরবাড়ি পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখবেন

হাম হলে শিশুকে যেসব খাবার খাওয়াবেন, যেসব খাওয়াবেন না

ঘর গোছানোর ভাইরাল ১২-১২-১২ নিয়ম কি আসলেই কার্যকর

আজকের রাশিফল: আর সাসপেন্স নেওয়া যাচ্ছে না—প্রপোজালটা করেই ফেলুন

‘কিল সুইচ’ দিয়ে কি এআই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব? বিজ্ঞানীরা যা বলছেন

চপস্টিকের ইতিহাস জানেন তো?

আজকের রাশিফল: মানুষের গোপন কথা জানার নেশা বিপদে ফেলবে, পরিশ্রমের ফল পাবেন