হোম > বিশ্ব > যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা

মাস্ক ‘মাদকসেবী’, ভাইস প্রেসিডেন্ট ‘ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিক’: হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস। ছবি: এএফপি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ বলয় নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে হোয়াইট হাউস চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস। ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শীর্ষ ধনী ও ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক সদস্য ইলন মাস্ককে ‘মাদকসেবী’ এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ‘ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিক’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

সুজি সাক্ষাৎকারে বলেন, টেসলা ইনকর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক প্রকাশ্যে কেটামিন (এক ধরনের মাদক) ব্যবহার করেন। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে একজন ‘ষড়যন্ত্রতাত্ত্বিক’ (কনস্পিরেসি থিওরিস্ট) এবং বাজেট প্রধান রাস ভটকে একজন ‘কট্টর ডানপন্থী উগ্রবাদী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ ছাড়াও, জেফরি এপস্টাইন সংক্রান্ত ফাইলগুলো ব্যবস্থাপনার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডির ভূমিকার সমালোচনা করেছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্যের প্রভাব কেমন হতে পারে ধারণা করে গতকাল মঙ্গলবারই বিষয়টিকে হালকা করার জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এসব মন্তব্য যেন গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গ্রহণ করা না হয় সেদিকে খেয়াল রাখছে হোয়াইট হাউস।

এরপর সুজি ওয়াইলস একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বলেন, ‘তাঁর বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করা হয়েছে।’ একে একটি ‘কপটভাবে সাজানো মানহানিকর প্রতিবেদন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

ওয়াইলসের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, ট্রাম্পের কাছে সুজির চেয়ে বড় বা বিশ্বস্ত কোনো উপদেষ্টা নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে লেভিট লেখেন, ‘পুরো প্রশাসন তাঁর (সুজি ওয়াইলস) অবিচল নেতৃত্বের জন্য কৃতজ্ঞ এবং সবাই সম্পূর্ণভাবে তাঁর পাশে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।’

তবে এই বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারটি ট্রাম্প ও তাঁর নীতিগুলো নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলার সুযোগ করে দিয়েছে। সেইসঙ্গে মাস্কের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্বও উসকে দিয়েছে বলা যায়।

মাস্কের সম্পর্কে ওয়াইলস এর আগেও বেশ আলোচিত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘সে সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছেমতো চলে। ইলনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলাই হলো আসল চ্যালেঞ্জ।’

অ্যাডলফ হিটলার, জোসেফ স্ট্যালিন এবং মাও সেতুংয়ের আমলে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যুর জন্য সরকারি খাতের কর্মীরা দায়ী—মাস্কের এমন একটি বিতর্কিত পোস্ট শেয়ার করা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওয়াইলস বলেন, ‘আমার মনে হয়, সে যখন এসব লেখে তখন সে মাইক্রোডোজিং (সামান্য পরিমাণে মাদক গ্রহণ) অবস্থায় থাকে।’

তবে ওয়াইলস এটিও স্বীকার করেছেন, মাস্কের মাদক সেবনের বিষয়ে তাঁর কাছে সরাসরি কোনো তথ্য বা প্রমাণ নেই।

এই বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেননি মাস্ক এবং টেসলার মুখপাত্ররা। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে মাস্কের বিরুদ্ধে কেটামিনসহ অন্যান্য মাদক সেবনের অভিযোগ তোলা হলে তিনি তা অস্বীকার করেছিলেন। সে সময় তিনি জানিয়েছিলেন, কয়েক বছর আগে চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি কেটামিন নিয়েছিলেন, কিন্তু এরপর আর কখনো তা গ্রহণ করেননি।

মাস্ক ট্রাম্পের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ (ডিওজিই)-এর প্রধান ছিলেন। এই বিভাগের লক্ষ্য ছিল ফেডারেল সরকারের আকার ও পরিধি কমিয়ে আনা। এই প্রক্রিয়ার শুরুতে তিনি ‘ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’ (ইউএসএআইডি) বন্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন।

ওয়াইলস জানান, মাস্ক যখন ট্রাম্পের পছন্দের কিছু কর্মসূচিও বন্ধ করে দেন, তখন তিনি ‘প্রথমে হতভম্ব’ হয়ে গিয়েছিলেন এবং মাস্কের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

ওয়াইলস ভ্যানিটি ফেয়ারকে বলেন, ‘ইলনের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, আপনাকে কাজটা দ্রুত শেষ করতে হবে। আর এই ধরনের মনোভাব থাকলে কিছু ক্ষয়ক্ষতি হবেই। তবে কোনো বিচারবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষই মনে করবে না যে, ইউএসএআইডির প্রক্রিয়াগুলো সঠিক ছিল। কেউই না।’

জেডি ভ্যান্স সম্পর্কেও খুব খোলাখুলি কথা বলেছেন ওয়াইলস। তিনি বলেন, ‘যিনি একসময় ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক ছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে প্রেসিডেন্টের ‘মাগা’ (MAGA) আদর্শকে আলিঙ্গন করে হোয়াইট হাউসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে (ভাইস প্রেসিডেন্ট) নিজেকে উন্নীত করেছেন।

ওয়াইলস আরও বলেন, ‘তাঁর (ভ্যান্স) এই ভোলবদল (ট্রাম্পের পক্ষে আসা) ঘটেছিল যখন তিনি সিনেট নির্বাচনের জন্য লড়ছিলেন। আর আমার মনে হয়, তার এই পরিবর্তনটা ছিল কিছুটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

ট্রাম্পের সমর্থনে নিজের অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে ভ্যান্স ভ্যানিটি ফেয়ারকে বলেছিলেন, ‘আমি বুঝতে পেরেছিলাম, আমি তাঁকে পছন্দ করছি, আমার মনে হয়েছিল তিনি অনেক ভালো কাজ করছেন এবং আমি ভেবেছিলাম, দেশ রক্ষার জন্য তিনিই মূলত সঠিক ব্যক্তি।’

ইতিহাস গড়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে যাচ্ছেন ট্রাম্পের স্ত্রী

মার্কিন বাহিনীতে আক্রমণের কোনো পরিকল্পনা ছিল না ইরানের: কংগ্রেসকে পেন্টাগন

খামেনিকে হত্যা করতে পারলেও ইরানকে ‘ঠিক’ করতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন সিনেটর

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আরও মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটতে পারে—বলছেন ট্রাম্প

ইরানের নতুন নেতৃত্ব আলোচনা চায়, আমি রাজি: ট্রাম্প

ইরানে অভিযান শুরুর পর ৩ মার্কিন সেনা নিহত, আহত ৫

ওমান উপসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

খামেনি নিহত হয়েছেন, ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প

ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তা: বাড়তি শুল্কের অর্থ ফেরত দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রশিল্প মাটিতে মিশিয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য: ট্রাম্প