ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে চরম বিভ্রান্তি ও সংঘাতের নতুন চিত্র ফুটে উঠেছে লেবাননে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা কার্যকর হওয়ার পরপরই ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েল এবং দক্ষিণ লেবাননে মোতায়েন করা ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা বন্ধ করে দিয়েছে। তবে ইসরায়েল লেবাননে যুদ্ধবিরতি মানতে নারাজ। তারা দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে আজ বুধবার ভোর থেকে তারা উত্তর ইসরায়েলে সব ধরনের রকেট হামলা এবং দক্ষিণ লেবাননে স্থলবাহিনীর ওপর আক্রমণ স্থগিত করেছে। মার্কিন-ইরান যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে না। হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এবং নেতানিয়াহুর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুতই একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসার কথা রয়েছে।
নেতানিয়াহুর ঘোষণার পরপরই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের একটি শহরে নতুন করে উচ্ছেদ নোটিশ জারি করেছে, যা সেখানে বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বুধবার সকালেও লেবাননের গণমাধ্যমগুলো দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলার খবর প্রকাশ করেছে। ইসরায়েল বলছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চলবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লেবাননের সেনাবাহিনী সাধারণ নাগরিকদের দক্ষিণ লেবাননের গ্রামগুলোতে ফিরে না আসার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং যুদ্ধবিরতির গুঞ্জনের পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিকদের দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকায় বা যেখানে ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান করছে সেখানে ফিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। ইসরায়েলি হামলা এখনো চলমান থাকায় নাগরিকদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।’
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাহরাইনে একটি ইরানি ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে দুজন আহত হয়েছেন এবং বেশ কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বাহরাইন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এ ছাড়া, দক্ষিণ ইসরায়েলে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ছোড়া ইরানি মিসাইলের আঘাতে তিন শিশু সামান্য আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, এই যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের সঙ্গে সমঝোতাকে ইসরায়েলের ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক বিপর্যয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ। তিনি অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু সরকার ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিষয়টি যথাযথভাবে তদারকি করা হবে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যেখানে ‘সর্বত্র’ যুদ্ধবিরতির দাবি করছেন, সেখানে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। শুক্রবার ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় লেবানন ইস্যু এবং ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক অবস্থান বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।