ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ইয়াল জামির সতর্ক করে বলেছেন, ক্রমবর্ধমান অপারেশনাল চাপ এবং তীব্র জনবল সংকটের কারণে দেশটির সেনাবাহিনী আপনাআপনি ‘ভেঙে পড়ার পথে’ রয়েছে। চলতি সপ্তাহে নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল–১৩ এর বরাত দিয়ে টাইমস অব ইসরায়েল এই তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাপ্রধান দেশটির সশস্ত্রবাহিনী কেন ভেঙে পড়বে সেই বিষয়ে ১০টি কারণ তুলে ধরে বলেন, ‘আমি আপনাদের সামনে ১০টি সতর্ক সংকেত তুলছি।’ তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনীর (আইডিএফ) জন্য প্রয়োজন বাধ্যতামূলক নিয়োগ আইন, রিজার্ভ ডিউটি আইন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর আইন।’ তিনি সতর্ক করেন, ‘অচিরেই আইডিএফ তাদের নিয়মিত মিশন পরিচালনার সক্ষমতা হারাবে এবং রিজার্ভ ব্যবস্থাও টিকবে না।’
এই মন্তব্য ঘিরে বিরোধী রাজনীতিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তারা অভিযোগ করেন, সরকার দেশের নিরাপত্তা নিয়ে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং অতিরিক্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে আল্ট্রা-অর্থোডক্স (হারেদি) যুবকদের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে দোষ চাপায় আইন প্রণয়নের জটিলতার ওপর।
একই বৈঠকে উপস্থিত সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান মেজর জেনারেল আভি ব্লুথ বলেন, পশ্চিম তীরে সরকারের নীতিগুলো আইডিএফের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে, যা ইতিমধ্যেই জনবল সংকটে ভুগছে। চ্যানেল–১২ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে জর্ডান উপত্যকা এবং পশ্চিম তীরজুড়ে অসংখ্য বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার, যার ফলে নিরাপত্তা ব্যবস্থার চাহিদা বেড়েছে।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সময় পশ্চিম তীর ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্র সেটলার তথা বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে। এই সপ্তাহেই, লেবাননে মোতায়েনের জন্য নির্ধারিত একটি পদাতিক ব্যাটালিয়নকে পশ্চিম তীরে সরিয়ে নেয় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী, কারণ বসতি স্থাপনকারীদের দ্বারা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা বেড়ে যায়। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এসব হামলা মোকাবিলায় আরও সেনা প্রয়োজন হতে পারে।
বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদন প্রচারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, ‘কোনো কৌশল ছাড়া, পর্যাপ্ত সম্পদ ছাড়া এবং খুব কম সেনা নিয়ে সরকার সেনাবাহিনীকে বহুমুখী যুদ্ধে ঠেলে দিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এবার সরকার বলতে পারবে না যে—তারা জানত না। এটাই সেই সেনাপ্রধান যাকে তারা নিজেরাই নিয়োগ দিয়েছে, এখন তাকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করে দায় চাপানো যাবে না।’ তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-ও দায় এড়াতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, সরকারকে ‘ইহুদি সন্ত্রাসবাদ’ দমনে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের ক্ষমতা হ্রাস করার আহ্বান জানান। কারণ, ‘খোলাখুলি ইহুদি সন্ত্রাসীদের সমর্থন করেন।’ পাশাপাশি তিনি সব ধরনের আইন প্রয়োগ ক্ষমতা ব্যবহার করার কথাও বলেন।