মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভয়াবহ উত্তেজনা প্রশমনে এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এড়াতে কূটনৈতিক অভিযানে নেমেছে পাকিস্তান। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামীকাল থেকে ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে চার দেশের এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, তিনি আজ শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এই ফোনালাপে শাহবাজ শরিফ ইরানকে আশ্বস্ত করেছেন, পাকিস্তান সক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে যাতে আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করা যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানকে পাকিস্তানের চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে অবহিত করেছি। আমরা চাই এই অঞ্চলে দ্রুত উত্তেজনা কমুক এবং সংলাপের পথ প্রশস্ত হোক।’ একই সঙ্গে তিনি ইরানে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানি জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে আগামী ২৯ ও ৩০ মার্চ ইসলামাবাদে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার নিশ্চিত করেছেন, এই দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইতিমধ্যে ইসলামাবাদে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাঁদের অংশগ্রহণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।
এই বৈঠকে প্রধানত দুটি বিষয় গুরুত্ব পাবে: ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের বিস্তার রোধ; একটি কার্যকর মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরোক্ষ সংলাপ শুরু করা।
ইসহাক দার জানিয়েছেন, বর্তমানে তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি কোনো যোগাযোগ না থাকলেও পাকিস্তানের মাধ্যমে ‘পরোক্ষ বার্তা’ বিনিময় করা হচ্ছে। পাকিস্তান মূলত দুই দেশের মধ্যে একটি নির্ভরযোগ্য ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে কাজ করছে।
পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতার প্রস্তাবকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি তাঁর নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ শাহবাজ শরিফের প্রস্তাবের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের এই উদ্যোগকে একটি সম্ভাব্য ‘ব্যাক-চ্যানেল’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের এই কূটনৈতিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সারা বিশ্বের নজর এখন আগামীকালের বৈঠকের দিকে, যেখান থেকে যুদ্ধের বিপরীতে শান্তির কোনো নতুন পথ উন্মোচিত হতে পারে।