আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে, ‘খালি পেটে জল, ভরা পেটে ফল’। দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা এই ধারণা অনুযায়ী অনেকে মনে করেন, সকালে খালি পেটে পানি পান এবং ফল সব সময় ভরা পেটে খাওয়া উচিত। আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও সমসাময়িক গবেষণার তথ্য বলছে অন্য কথা। ফল খাওয়ার নির্দিষ্ট কোনো সেরা বা খারাপ সময় নেই। বরং দিনের যেকোনো সময় ফল খাওয়া শরীরের জন্য উপকারী ও পুষ্টিকর।
অনেকের ধারণা, খাবারের সঙ্গে ফল খেলে হজমের প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায় এবং খাবার পাকস্থলীতে পচে গ্যাস বা অস্বস্তি তৈরি করে। এটি একটি ভ্রান্ত ধারণা। ফলে থাকা আঁশ পাকস্থলী থেকে খাবার নির্গমনের হার কিছুটা কমিয়ে দিতে পারে। যেমন ফলের পেকটিন নামক আঁশ পাকস্থলী খালি হওয়ার সময় ৭০ মিনিট থেকে বাড়িয়ে ৮২ মিনিট করতে পারে। কিন্তু এটি খাবার পচিয়ে ফেলার মতো দীর্ঘ সময় নয়। সে কারণে খালি পেটে কিংবা ভরা পেটে—যেকোনোভাবেই ফল খাওয়া নিরাপদ।
একটি প্রচলিত ধারণা হলো, খাবারের ঠিক আগে বা পরে ফল খেলে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু মানুষের পরিপাকতন্ত্র এবং ক্ষুদ্রান্ত্র এমনভাবে তৈরি, যা খাবারের সবটুকু পুষ্টি শোষণে সক্ষম। তাই ফল খালি পেটে খাওয়া হোক কিংবা খাবারের সঙ্গে; শরীর এর প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকই গ্রহণ করে নিতে পারে।
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ফল খাওয়ার সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ফলের সঙ্গে অন্য কী খাবার খাওয়া হচ্ছে, সেটি। খালি পেটে ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এর বদলে ফলের সঙ্গে প্রোটিন, আঁশ কিংবা চর্বিযুক্ত খাবার খেলে রক্তে শর্করা মেশার গতি ধীর হয়। এতে শর্করার মাত্রা হুট করে বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। তবে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে সকালে একবারে বেশি শর্করা বা ফল না খেয়ে সারা দিনে অল্প অল্প করে ভাগ করে খাওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে।
অনেকে বলেন, ফল শুধু সকালেই খাওয়া উচিত। আবার কেউ কেউ মনে করেন, বেলা দুইটার পর ফল খেলে ওজন বাড়তে পারে। প্রকৃতপক্ষে, দিনের যেকোনো সময় ফল খাওয়া স্বাস্থ্যকর। পরিপাকতন্ত্র সব সময় খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকে, এর জন্য বিশেষ কোনো ‘ওয়েক আপ কল’ বা নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন নেই। বেলা দুইটার পর ফল খেলে রক্তে শর্করা বেশি বাড়বে বা ওজন বাড়বে, এমন দাবিরও কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
ফল খাওয়ার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। আপনি ভরা পেটে বা খালি পেটে, আপনার পছন্দমতো যেকোনো সময় ফল খেতে পারেন। তবে ডায়াবেটিসের মতো বিশেষ শারীরিক অবস্থায় খাবারের সঙ্গে ফল খাওয়া রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। মূলকথা হলো, সময় নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফলের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করাই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।
সূত্র: হেলথ লাইন