নরসিংদীর মাদরাসাতুল আবরার আল আরাবিয়া মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
এই দাবিতে একটি পোস্ট (আর্কাইভ) ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টের কমেন্ট যাচাই করে দেখা যায়, বেশির ভাগ ব্যবহারকারী ভিডিওটি সত্য মনে করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ শিক্ষককে ‘কলঙ্ক’ বলে কমেন্ট করেছেন, আবার কেউ বলেছেন, একজন ভালো শিক্ষক কখনোই এমন করতে পারেন না।
আজকের পত্রিকার অনুসন্ধান
ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করতে প্রথমেই ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এক ব্যক্তি শিশুটিকে লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন এবং আরেকজন তাকে ধরে রেখেছেন। ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি চিৎকার করছে এবং ছেড়ে দেওয়ার জন্য মিনতি করছে। ধারণা করা হচ্ছে, তৃতীয় কোনো ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ঘটনাটি ধারণ করেছেন।
অনুসন্ধানে ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে ভিডিওটির একটি দৃশ্যের মিল পাওয়া যায়।
আজ রোববার (৫ এপ্রিল) প্রকাশিত Teachers beat 10-year-old in UP madrasa; one holds him down, another strikes with a stick শিরোনামের ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভিডিওটি ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যে সাহারানপুর এলাকার একটি মাদ্রাসায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার দৃশ্য। সেখানে দেখা যায়, এক শিক্ষক শিক্ষার্থীকে ধরে রেখেছেন ও আরেকজন লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন—যা ভাইরাল ভিডিওটির সঙ্গে মিলে যায়।
এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একাধিক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। প্রোফাইলের তথ্য অনুযায়ী এক্স অ্যাকাউন্টগুলো ভারত থেকে পরিচালিত।
অন্যদিকে, অনুসন্ধানে দেশীয় গণমাধ্যমে নরসিংদীতে শিশু নির্যাতনের একটি আলাদা ঘটনার প্রতিবেদন পাওয়া যায়। বার্তা ২৪-এর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নরসিংদী শহরের ভেলানগর এলাকায় মাদরাসাতুল আবরার আরাবিয়াহ মাদ্রাসায় মুজাহিদুল (৭) নামের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে নাজমুস সাকিব নামের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গোসল করতে না চাওয়ায় ওই শিক্ষক শিশুটিকে মারধর করেন এবং পরে তিনি দোষ স্বীকার করে নিজেই এটিকে ‘ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ’ বলে উল্লেখ করেন।
তবে নরসিংদীর ওই ঘটনার সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
সিদ্ধান্ত
নরসিংদীর মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী শিশুকে নির্যাতনের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বিভ্রান্তিকর। ভিডিওটি আসলে ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি ঘটনার।