শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা অনিয়ম ও সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়াসহ আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও কাঠামোগত পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
আজ রোববার সকালে রাজধানীর বনানীতে ‘বাংলাদেশের শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ’ শীর্ষক এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব সংস্কারের কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি সুসমন্বিত ধারায় নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীরা মজবুত ভিত্তি নিয়ে গড়ে উঠতে পারে।
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি ঘোষণা করেন, ‘আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সরকারি উদ্যোগে মিড-ডে মিল, ইউনিফর্ম, স্কুল ব্যাগ ও জুতা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি সরকারি স্কুলেই প্রি-প্রাইমারি বা প্রাক-প্রাথমিক ক্লাস চালু করা হবে।’
অভিভাবকদের সরকারি স্কুল ছেড়ে বেসরকারি কিন্ডারগার্টেনের দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মান এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে যাতে সাধারণ মানুষ পুনরায় এর ওপর আস্থা ফিরে পায়। এখন থেকে শিক্ষা খাতের প্রতিটি ব্যয়ের বিপরীতে বাস্তব ফলাফল (আউটকাম) কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে।
শিক্ষক বদলি নিয়ে অতীতে গড়ে ওঠা অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘বিগত দিনে শিক্ষকদের বদলি নিয়ে একটি বিশাল সিন্ডিকেট ও বাণিজ্য গড়ে উঠেছিল। এই অপতৎপরতা চিরতরে বন্ধ করতে এখন থেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলির পুরো প্রক্রিয়াটি স্থানীয় প্রশাসনের হাতে ন্যস্ত করা হবে।’
শিক্ষকদের পেশাগত মান নিশ্চিত করতে তিনি আরও একটি বড় ঘোষণা দেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী দুই বছর পর প্রয়োজনীয় পেশাদার প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো শিক্ষককে ক্লাসরুমে পাঠদান বা ক্লাসে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।
বক্তব্যের শেষ অংশে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৭ সালের কারিকুলামে প্রাথমিক পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক শিক্ষা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হবে। এ ছাড়া দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট ও একক ‘স্কুল ক্যালেন্ডার’ তৈরি করে দেওয়া হবে, যা শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই সব স্কুলকে অনুসরণ করতে হবে।
কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাকে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।