হোম > শিক্ষা

নিজেকে বিজয়ী করার ৬ শিক্ষা

সাব্বির হোসেন

বর্তমান সময়ের অসুস্থ প্রতিযোগিতা, চারপাশের নেতিবাচক পরিবেশ এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে আমরা প্রায়ই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ি। তখন মনে হয়, জীবনের কিছুই যেন নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই। তবে হাজার বছরের পুরোনো ‘স্টোয়িক দর্শন’ এবং রায়ান হলিডের বিখ্যাত বই ‘দ্য ডেইলি স্টোয়িক’ আমাদের শোনায় ভিন্ন এক বাস্তবতার গল্প। জীবনকে সুন্দর, অর্থবহ ও শান্তিময় করার জন্য এই দর্শনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পাঠই এখানে তুলে ধরা হলো।

মনকে স্থির রাখুন

জীবনের সবকিছু আমাদের হাতে নেই। আমরা কেবল নিজের চিন্তা, কাজ এবং ঘটনাগুলোর প্রতি আমাদের প্রতিক্রিয়াগুলোই নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। তাই যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তা নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা করা বৃথা।

প্রতিদিন সকালে নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়া জরুরি, দিনের পথে নানা ধরনের মানুষ ও পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু সেগুলোর প্রভাব কতটা নিজের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত একান্তই আমাদের। বাইরের জগৎ যতই অস্থির হোক না কেন, নিজের ভেতরের শান্তি রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদেরই।

সময়ের মূল্য দিন

আমরা প্রায়ই সময়ের গুরুত্ব দিতে চাই না। অথচ এটি সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। অর্থ বা সম্পদ ফিরে পাওয়া গেলেও, হারানো সময় আর ফিরে পাওয়া যায় না। অতীত পেছনে পড়ে গেছে, ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। তাই গুরুত্বপূর্ণ হলো বর্তমান মুহূর্তকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো। বর্তমানই আমাদের কাজ, সিদ্ধান্ত ও জীবনের মান গড়ে ওঠে। জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব বা মৃত্যুচিন্তা ভয় নয়। এটি আমাদের প্রতিটি মুহূর্তকে অর্থবহভাবে বাঁচার একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণা দেয়।

বাধা নয়, সুযোগ দিন

জীবনে চলার পথে বাধা আসবেই। তবে সে বাধাকে কীভাবে মোকাবিলা করবেন, সেটিই আসল। স্টোয়িক দর্শন শেখায়, প্রতিটি বাধাই আসলে নতুন পথ খুঁজে নেওয়ার সুযোগ। বাধা কখনো আমাদের থামায় না; বরং বিকল্প পথ দেখায়। একইভাবে, জীবনে যা ঘটছে তা মেনে নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। যেসব পরিস্থিতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, সেগুলোকে হাসিমুখে গ্রহণ করাই জ্ঞানীর কাজ। এতে ভুল বা ব্যর্থতা লজ্জার নয়; বরং শেখার উপাদানে পরিণত হয়।

আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুন

অনেক সময় আমরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাই। এটি পরে সমস্যার কারণ হয়। কেউ অপমান করলেই সঙ্গে সঙ্গে জবাব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা এবং শান্ত থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া। অপ্রয়োজনীয় ভয় ও কল্পনা থেকে আমাদের অধিকাংশ মানসিক যন্ত্রণা সৃষ্টি হয়। রাগের মাথায় নেওয়া সিদ্ধান্ত নিজের ক্ষতি করে। তাই রাগ নিয়ন্ত্রণ করুন। প্রয়োজনের বাইরে কথা বলা থেকে বিরত থাকা থাকুন। বেশি শোনা, কম বলা—এটি জীবনে ভারসাম্য আনে এবং অপ্রত্যাশিত সমস্যাও কমায়।

আত্মশুদ্ধি ও বিনয়ী হোন

অন্যের সমালোচনার চেয়ে নিজের উন্নতির দিকে মনোযোগ দেওয়া অনেক বেশি জরুরি। নিজের ভেতরের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বের করা এবং সেগুলো সংশোধন করাই প্রকৃত উন্নতির পথ। জ্ঞান অর্জনের পথে অহংকার সবচেয়ে বড় বাধা। কেউ যদি মনে করে সে সব জানে, তবে শেখার দরজা তার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। তাই বিনয়ী হওয়া এবং শিখতে আগ্রহী থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সরল জীবন ও আত্মপ্রস্তুতি

অতিরিক্ত বিলাসিতা অনেক সময় মানুষকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তোলে। তাই মাঝেমধ্যে সরল ও কিছুটা কষ্টসাধ্য জীবনযাপন করা প্রয়োজন। এতে কঠিন পরিস্থিতিতেও ভেঙে না পড়ে টিকে থাকা যায়। জীবন বদলাতে অনেক বই পড়ার প্রয়োজন নেই। একটি ভালো শিক্ষা নিজের জীবনে প্রয়োগ করাই বেশি কার্যকর। বড় পরিবর্তনের চেয়ে ছোট ছোট পদক্ষেপে প্রতিদিন নিজেকে ১ শতাংশ উন্নত করা—এটিই ধারাবাহিক উন্নতির মূলমন্ত্র।

জবিতে প্রথম ‘ভাইস চ্যান্সেলর গবেষণা পুরস্কার’ পেলেন চার শিক্ষক

রাজধানীর কিছু নির্বাচিত বিদ্যালয়ে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস চালু হতে পারে: শিক্ষামন্ত্রী

ইংরেজি চর্চা: সহজ কৌশলে আত্মবিশ্বাসী আলাপ (পর্ব-২)

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হতে ৫৩ হাজার ৬৯ আবেদন

জিএসটি গুচ্ছের ‘বি’ ইউনিটে প্রথম হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মিজান

‎পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি বন্ধে আইন হালনাগাদ হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষকদের জন্য আলাদা একটা পে-স্কেল গঠনের পক্ষে শিক্ষামন্ত্রী

ইংরেজি চর্চা: ইংরেজিতে কথা এগোবেন যেভাবে (পর্ব-১)

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনলাইন-অফলাইন ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহে: শিক্ষামন্ত্রী

ইবি কর্মকর্তা সমিতির নির্বাচন: সভাপতি বাবুল, সম্পাদক তোজাম