মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার লক্ষ্য ‘শাসন পরিবর্তন’ নয়। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে এবং সেটিকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
সোমবার (২ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ বলেন, ‘এটি তথাকথিত শাসন পরিবর্তনের যুদ্ধ নয়। কিন্তু শাসন অবশ্যই পরিবর্তিত হয়েছে এবং এতে বিশ্ব আরও ভালো অবস্থানে রয়েছে।’
হেগসেথের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন ইরানে হামলার উদ্দেশ্য ও পরিণতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য প্রকাশ্যেই ইরানের শাসন পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। হামলার পর প্রথম আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে তিনি সরাসরি ইরানের জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমেরিকা আপনাদের পাশে আছে অপরিসীম শক্তি ও বিধ্বংসী ক্ষমতা নিয়ে। এখনই সময় নিজেদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এবং সমৃদ্ধ ও গৌরবময় ভবিষ্যতের দুয়ার উন্মুক্ত করার।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই আহ্বানকে অনেকে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা নয়।
হেগসেথ আরও দাবি করেন, এই সংঘাতের সূচনা যুক্তরাষ্ট্র করেনি। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি। ইরান বহু দশক ধরে আমেরিকার বিরুদ্ধে একতরফা যুদ্ধ চালিয়ে আসছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ইরান আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং মার্কিন স্বার্থে হামলার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।
হেগসেথ বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমরা এটি শেষ করছি।’
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটনের ভেতরে ইরানের শাসন পরিবর্তন নিয়ে ভিন্নমুখী বক্তব্য ভবিষ্যৎ নীতিগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।