সমঝোতা বৈঠক আজ
দেশের প্রথম ভূগর্ভস্থ মেট্রোরেল প্রকল্প এমআরটি-১ দরপত্রের ব্যয় নিয়ে বাস্তবায়নকারী সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এবং জাপানের ঋণদাতা সংস্থা জাইকার মধ্যে মতবিরোধের কারণে কয়েক বছর ধরে কার্যত স্থবির হয়ে রয়েছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে আজ মঙ্গলবার দুই পক্ষের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মূলত প্রকল্পের কাজ ফের শুরু করার পথ খুলতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এই সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ডিএমটিসিএল, জাইকা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
আলোচনায় এমআরটি-১ লাইনের সিপি-০২ ও সিপি-০৫ নামে দুটি বড় নির্মাণ প্যাকেজ বাতিল করে আবার দরপত্র আহ্বানের প্রস্তাব তোলা হবে।
সূত্র বলছে, এসব প্যাকেজে জমা পড়া দরপত্রের মূল্য সরকারি প্রাক্কলনের তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি হওয়ায় ডিএমটিসিএল সেগুলো বাতিল করতে চায়। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান দরপত্রগুলো গ্রহণ করা হলে পুরো এমআরটি-১ প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ৯৬,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। অথচ প্রকল্পটি মূলত অনুমোদিত হয়েছিল ৫২,৫৬১ কোটি টাকার ব্যয়ে। অর্থাৎ দরপত্র অনুযায়ী এগোলে প্রকল্পের ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষ করে রূপগঞ্জে ডিপো নির্মাণ-সংক্রান্ত সিপি-০২ প্যাকেজে সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব এসেছে প্রায় ৩,৩৫৩ কোটি টাকা, যেখানে সরকারি প্রাক্কলন ছিল মাত্র ১,২৩০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রস্তাবিত দর প্রায় ১৭২ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বিমানবন্দর থেকে নাদ্দা পর্যন্ত মূল টানেল ও স্টেশন নির্মাণের সিপি-০৫ প্যাকেজে সর্বনিম্ন দর প্রস্তাব ৫,০৫৫ কোটি টাকা, যা সরকারি প্রাক্কলন ৪,০১২ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ বেশি।
এ পরিস্থিতিতে ডিএমটিসিএল মনে করছে, বর্তমান দরপত্র গ্রহণ করা অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক এবং আইনগতভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই তারা নতুন করে আন্তর্জাতিক দর আহ্বানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
তবে জাইকার অবস্থান ভিন্ন। সংস্থাটি বলছে, তাদের ক্রয় নির্দেশিকা অনুযায়ী দরপত্র মূল্যায়ন সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রস্তাবিত ব্যয় বর্তমান বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির প্রতিফলন। ভূগর্ভস্থ নির্মাণকাজের উচ্চ ঝুঁকি, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দরপত্র বেশি হওয়া স্বাভাবিক বলেও তারা মনে করছে।
জাইকা আরও সতর্ক করেছে, দরপত্র বাতিল করা হলে তা ঋণচুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন অন্তত ১৮-২৪ মাস পিছিয়ে যেতে পারে।
এদিকে প্রকল্পের বর্তমান অচলাবস্থা ইতিমধ্যে সময়সূচিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত সমাধান না হলে ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা এমআরটি-১ প্রকল্পের সময়সীমা পিছিয়ে ২০৩০ সাল পর্যন্ত গড়াতে পারে।