রাশিয়ায় যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের যুদ্ধের সম্মুখভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের একটি বড় অংশ নিহত হয়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন একটি ফোনালাপের অডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে তিনটি পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ভাইরাল হওয়া ওই অডিও রেকর্ডে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়া একটি দলের মাত্র চারজন সদস্য এখন পর্যন্ত বেঁচে আছেন এবং তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তবে এই অডিও ক্লিপটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ওই কল রেকর্ডে এক ব্যক্তিকে নিজেকে জামালপুরের ‘আরমান’ পরিচয় দিতে শোনা যায়। তিনি দাবি করেন, তাঁর সঙ্গে রাশিয়ায় যাওয়া চারজন ছাড়া বাকি সবাই যুদ্ধে মারা গেছেন। বর্তমানে জীবিত থাকা ওই চারজনকে আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
ফোনালাপে অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিকে এই বার্তাটি সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানাতে শোনা যায়। তবে অপর প্রান্তের ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভাইরাল হওয়া অডিওতে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম এবং মজিদপুর গ্রামের পবিত্র চন্দ্রের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে গোপালপুরের তিনজনসহ মোট ৩০ জন বাংলাদেশি নাগরিক রাশিয়ায় যান। গোপালপুর থেকে যাওয়া ওই তিন ব্যক্তি হলেন— আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের মৃত কছর উদ্দিনের ছেলে; পবিত্র চন্দ্র, মজিদপুর গ্রামের পরেশ চন্দ্র সূত্রধরের একমাত্র ছেলে; নজরুল ইসলাম, বীর নলহরা গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের ছেলে।
নিখোঁজ নজরুল ইসলামের স্ত্রী আছমা বেগম এর আগে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ঈদুল আজহার রাতে তাঁর স্বামী ফোন করে জানিয়েছিলেন যে তাঁদের পাঁচজনের গ্রুপ করে যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হয়েছে।
নজরুল ইসলামের ভাতিজা শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘প্রথমে পাঁচজন করে গ্রুপ করা হলেও পরে ১৬ জন ও ১৪ জনের দুটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। ১৬ জনের ওই গ্রুপটিতে আমার কাকা ছিলেন। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, ওই ১৬ জনের মধ্যে বর্তমানে মাত্র চারজন জীবিত আছেন।’
ছড়িয়ে পড়া অডিওটির বিষয়ে নিখোঁজদের তিনটি পরিবারের সঙ্গেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছেন, অডিওটি শোনার পর থেকে তাঁরা গভীর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ায় থাকা স্বজনদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না থাকায় তাঁরা স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারছেন না।
পরিবারগুলোর অভিযোগ, ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁদের স্বজনদের রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়া হলেও সেখানে তাঁদের জোরপূর্বক যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ায় নিখোঁজ থাকা তাঁদের স্বজনদের দ্রুত খুঁজে বের করে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।