হোম > সারা দেশ > টাঙ্গাইল

সেতু নেই, ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পেরিয়েই চলাচল সখীপুর-বাসাইলের হাজারো মানুষের

সাইফুল ইসলাম সানি, সখীপুর (টাঙ্গাইল)

নদের ওপর কোনো সেতু না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁশের সাঁকো দিয়েই পারাপার হতে হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

টাঙ্গাইলের সখীপুর ও বাসাইল উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে বংশাই নদ। নদের দুই পাড়ে বসবাস করেন হাজারো মানুষ। শিক্ষা, চিকিৎসা, বাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে প্রতিদিনই তাদের এপার-ওপার যেতে হয়। কিন্তু নদের ওপর কোনো সেতু না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো কিংবা নৌকাই তাদের একমাত্র ভরসা।

সখীপুর উপজেলার পশ্চিম সীমান্ত ও বাসাইল উপজেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়দের মতে, বাসাইল উপজেলার সুন্যা বাজারসংলগ্ন বংশাই নদের ওপর একটি সংযোগ সেতু নির্মাণ হলে দুই উপজেলার অর্ধশত গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং বদলে যাবে জীবনযাত্রা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সুন্যা বাজার ঘেঁষা বংশাই নদের ওপর স্থানীয় পাটনী (নদ পারাপারের মাঝি) রতন তরনী দাসের ছেলেরা প্লাস্টিকের ড্রাম ও বাঁশ দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করে লোক পারাপার করছেন। বর্ষাকালে পানি বেড়ে গেলে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় মানুষ পারাপার হয়। বর্তমানে ওই সাঁকোটিরও নড়বড়ে অবস্থা।

সুন্যা বাজারে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি আলিম মাদ্রাসা ও কয়েকটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। প্রতিদিন এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ সখীপুর ও বাসাইল উপজেলার হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়েই এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করেন। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে রোগী পারাপারের জন্য কোনো যানবাহন নেওয়ার সুযোগও নেই।

স্থানীয়রা জানান, সখীপুর উপজেলার কাঙালিছেও, দাড়িয়াপুর, যাদবপুর, বেড়বাড়ি, কৈয়ামধু, প্রতিমা বংকী, শোলাপ্রতিমা, বোয়ালী, দেওবাড়ি, লাঙ্গুলিয়া, চাকলাপাড়া, সিলিমপুরসহ পশ্চিমাঞ্চলের অনেক মানুষ প্রতিদিন এই সাঁকো ব্যবহার করেন। অন্যদিকে বাসাইল উপজেলার সুন্যা, গিলাবাড়ী, কলিয়া, কাউলজানি ও মান্দারজানি গ্রামের মানুষও একই পথ ধরে সখীপুরে যাতায়াত করেন।

সুন্যা আব্বাসিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লুবনা আক্তার বলে, ‘এই ভাঙা বাঁশের সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়। বর্ষাকালে ভয় লাগে, অনেক সময় স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয় না। এখানে একটি সেতু খুবই প্রয়োজন।’

সুন্যা সম্মিলিত আলিম মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রতিদিন মোটরসাইকেল সখীপুরের কাঙালিছেও পাশে রেখে হেঁটে সাঁকো পেরিয়ে ওপারে যেতে হয়। এই ভোগান্তি কবে শেষ হবে জানি না।’

সুন্যা বাজারের ব্যবসায়ী শাহজাহান মিয়া বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো ডুবে যায়। তখন নদের ওপারের সখীপুর থেকে ফলমূল, শাকসবজি ও ধান আনা যায় না। তখন একমাত্র ভরসা নৌকা। একটি সেতু হলে দুই উপজেলার মানুষেরই উপকার হবে।’

এ বিষয়ে এলজিইডির বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফাত্তাউর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মহোদয়ও (আহমেদ আযম খান) বিষয়টি অবগত রয়েছেন এবং তিনি আমাদের বিভিন্ন সময় তাগিদও দিয়েছেন। আমাদের নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবের মধ্যে রেখে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যাতে সেতুটির কার্যাদেশ শুরু করতে পারি সে ব্যাপারে আমরা চেষ্টা করব।’

রাশিয়ায় যুদ্ধের ময়দানে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর দাবি: ভাইরাল অডিও ঘিরে টাঙ্গাইলে উৎকণ্ঠায় তিন পরিবার

ফ্রিজ সরাতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে শিক্ষকের মৃত্যু

আজকের পত্রিকার মির্জাপুর প্রতিনিধির মায়ের ইন্তেকাল

সখীপুরে বাঁশবোঝাই ট্রাকের পেছনে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪

টাঙ্গাইল চেম্বারের সভাপতি নির্বাচিত হলেন টিটু

যমুনা সেতুতে ২৪ ঘণ্টায় ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা টোল আদায়

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ১৭ কিলোমিটারজুড়ে যানজট

টাঙ্গাইলে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নিহত ১: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগে নিহত ১, আহত অন্তত ১৫

টাঙ্গাইলে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২০