রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে শেরপুর-৩ আসনের অভিভাবক। ইতিমধ্যে শ্রীবরদী উপজেলার ৭২টি ভোটকেন্দ্র ও ঝিনাইগাতী উপজেলার ৫৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের সব সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আজ বুধবার সন্ধ্যার আগে ভোটের প্রস্তুতি হিসেবে বুথ স্থাপনসহ অন্য সব কার্যক্রম শেষ করে ভোট গ্রহণের অপেক্ষায় রয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের প্রার্থী আলহাজ নুরুজ্জামান বাদলের মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের নতুন তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শেরপুর-৩ আসনে ভোট গ্রহণ হবে। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতের আলহাজ মাসুদুর রহমান ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্ক্সবাদী) মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাসুদুর জামায়াতের প্রয়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের ছোট ভাই।
ইতিমধ্যে বিএনপি সরকার গঠন করায় বিএনপির প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেল অনেকাংশে নির্ভার মেজাজে রয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতের প্রয়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলের ইমেজকে কাজে লাগিয়ে জয় পেতে আশাবাদী জামায়াতের বর্তমান প্রার্থী মাসুদুর।
আগামীকাল শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতীর ভোটাররা তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নেবেন। দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত শেরপুর-৩ আসনে ৪ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৭ জন ভোটার রয়েছেন। মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া র্যাবের ১০টি টিম মাঠে কাজ করবে, চারটি টিম রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবে। পুলিশের ২৬টি মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনী মাঠে শৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ১৮ জন পর্যবেক্ষক থাকবেন। দুই উপজেলায় দায়িত্ব পালন করবেন দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির তিনজন যুগ্ম জেলা জজ। এ ছাড়া সেনাবাহিনীর কয়েকটি টিম মাঠে নিয়োজিত থাকবে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারে পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ১২ জন করে আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে।