সরকারি খাসপুকুর ইজারা নিতে টেন্ডারে অংশগ্রহণের জন্য রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ‘রাতারাতি’ ২০টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি গজিয়ে উঠেছে। এগুলোর নিবন্ধনের ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়ার এবং উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। গত ২১-২৮ জানুয়ারি তড়িঘড়ি করে এসব সমিতিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপজেলায় নিবন্ধিত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি ছিল ৪৮টি। আর ২০ একরের কম আয়তনের মোট খাসপুকুর রয়েছে ৩ হাজার ৬৫৭টি। এই খাসপুকুরগুলোর ইজারা নিতে অনলাইনে আবেদনের শেষ সময় ছিল ২৯ জানুয়ারি। এর আগে তড়িঘড়ি করে নতুন ২০টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিকে নিবন্ধন দেওয়া হয়। এ জন্য রাজশাহী জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম, তাঁর অধস্তন জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম এবং তানোর উপজেলা সমবায় অফিসের অফিস সহকারী মোস্তাফিজুর রহমানের একটি সিন্ডিকেট প্রতিটি সমিতি নিবন্ধনের বিপরীতে লাখ টাকা করে উৎকোচ নিয়েছে।
এ নিয়ে গোদাগাড়ীর কাকন দরগাপাড়ার বাসিন্দা সোলায়মান আলী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, শর্ত লঙ্ঘন ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে অন্তত ২০টি সমবায় সমিতির নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাটপুকুর রাজারামপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, দিগন্ত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, স্বপ্নপল্লী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, অনির্বাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, উদয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, রসুলপুর নুন্দাপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, সাগুয়ান ঘুন্টিঘর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড, সাগুয়ান চৌকিপুকুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড এবং কাজীপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের ৯টি সমিতিকে নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে ভয়াবহ জালিয়াতি হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো কোনো সমিতির সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দা নন। কোথাও একই ব্যক্তির স্ক্যান করা স্বাক্ষর দিয়ে ২০ সদস্যের আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবার কোথাও ভুয়া ঠিকানা ও অস্তিত্বহীন অফিসঘর দেখানো হয়েছে।
অনির্বাণ সমিতির ক্ষেত্রে জাহানাবাদ গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করা হলেও সেখানে কোনো মৎস্যজীবী সদস্য নেই বলে দাবি করা হয়েছে অভিযোগে। উদয় সমিতির নিবন্ধনে সংরক্ষিত মৎস্যজীবী কার্ড ব্যবহার ও স্বাক্ষর জালের অভিযোগ রয়েছে অফিস সহকারী মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া সাগুয়ান ঘুন্টিঘর ও সাগুয়ান চৌকিপুকুর নামের দুটি সমিতির ক্ষেত্রে একই সদস্যদের নাম ব্যবহার করে একই দিনে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি খাসপুকুরের টেন্ডারে অনলাইনে আবেদনের শেষ সময় ছিল ২৯ জানুয়ারি। সেই সময়সীমার আগেই দ্রুত নিবন্ধন সম্পন্ন করা হয়, যাতে সংশ্লিষ্ট সমিতিগুলো টেন্ডারে অংশ নিতে পারে। এবং সব কটি সমিতি অনলাইনে আবেদনও করেছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। উপজেলা অফিস থেকে ফাইল এলে যাচাই-বাছাই করেই নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।’
তানোর উপজেলা সমবায় অফিসের অফিস সহকারী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি ছোট কর্মচারী। নিবন্ধনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নই। পুকুর ইজারা বা বিক্রির অভিযোগও সঠিক নয়।’
জেলা সমবায় কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিন ইসলাম বলেন, ‘দুদকে অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। সিন্ডিকেট বা উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই।’ বিধি মেনেই সমিতি নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি রবিন ইসলামের।