হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

জুলাই যোদ্ধাদের দাবির মুখে প্রেসক্লাব বন্ধ রাখার পরামর্শ দিলেন ইউএনও

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

নিরাপত্তা সংকটে সাংবাদিকেরা গোদাগাড়ী প্রেসক্লাবে বসতে পারছেন না। ছবি: আজকের পত্রিকা

জুলাই যোদ্ধাদের দাবির মুখে গোদাগাড়ী উপজেলা প্রেসক্লাব বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুস সাদাত রত্ন। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে ডেকে তিনি এ পরামর্শ দেন।

সাংবাদিকেরা বলছেন, প্রেসক্লাব চলে সাংবাদিকদের নিজস্ব নিয়মে। এখানে সরকারি কিংবা যেকোনো হস্তক্ষেপ স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি। সাংবাদিকেরা ইউএনওর এমন পরামর্শের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তাঁকে এই অবস্থান থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

গোদাগাড়ীর স্থানীয় সাংবাদিকেরা বলেন, ২০০৪ সালে এই প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৯ সালে উপজেলা সদর ডাইংপাড়া মোড়ের একটি জায়গায় এক কক্ষের প্রেসক্লাব ভবন নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন এই প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন আলমগীর কবির তোতা। জুলাই যোদ্ধাদের অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগের দোসর। বিষয়টি সামনে এনে তাঁরা প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। সম্প্রতি প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি করা হলেও তাঁদের সেই চেষ্টা থামেনি।

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই যোদ্ধা’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. মুরসালিন ২৪ মার্চ ইউএনওর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এতে তিনি দাবি করেন, প্রেসক্লাবে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এরপর সেদিনই তাঁর নেতৃত্বে প্রেসক্লাবে তালা দেওয়া হয়। পরে সাংবাদিকেরা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। কিন্তু তাঁরা প্রেসক্লাবে বসতে পারছেন না। এ ঘটনায় সাংবাদিকেরা থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় তাঁরা প্রেসক্লাবে বসেছিলেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক সদস্যসচিব মো. রহমতুল্লাহসহ কয়েকজন সেখানে যান। তাঁরা তাঁকে জানান, প্রেসক্লাবের ব্যাপারে ইউএনওর কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা যেন প্রেসক্লাব না খোলেন। সেই থেকে নিরাপত্তা সংকটে সাংবাদিকেরা প্রেসক্লাবে বসতে পারছেন না।

‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি সাবিয়ার রহমান মিল্টন বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা প্রেসক্লাবে নিজেদের অফিস করতে চাচ্ছিলেন। তিনি ইতিমধ্যে কয়েক দফা সেই উদ্যোগ ঠেকিয়েছেন।

প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রেসক্লাব দখলের চেষ্টার বিষয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এতে আরও চটেছেন ইউএনও এবং জুলাই যোদ্ধারা। এখন জুলাই যোদ্ধারা নিজেদের অফিস করার দাবি থেকে সরে এসে প্রেসক্লাব গুঁড়িয়ে দিয়ে সেখানে পাবলিক টয়লেট কিংবা যাত্রীছাউনি করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।’

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শনিবার সকালে ইউএনও নাজমুস সাদাত রত্ন আমাকে ডেকে পাঠান। এরপর তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কিছু দিন প্রেসক্লাব বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন। আর এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করা ঠিক হয়নি বলে জানান। তিনি বলেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের সরকারও ভয় পায়। সেখানে তাদের সঙ্গে মীমাংসা করে নেওয়াই ভালো হবে।’

ইউএনওর এমন পরামর্শের নিন্দা জানিয়ে রাজশাহী এডিটরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব অপু বলেন, ‘প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের নিজস্ব নিয়মে চলে। এখানে যেকোনো ধরনের হস্তক্ষেপই স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে। ইউএনও সরকারি কর্মকর্তা। তাই তাঁর এমন পরামর্শ সরকারকে নিয়ে ভুল বার্তাও ছড়াতে পারে।’

জানতে চাইলে ইউএনও নাজমুস সাদাত রত্ন বলেন, ‘প্রেসক্লাবের সভাপতির সঙ্গে আমার এ বিষয়ে কথা হয়েছে। কিন্তু প্রেসক্লাব বন্ধ রাখার পরামর্শ ওইভাবে দেওয়া হয়নি।’ কী পরামর্শ দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, ‘অফিসে আসেন। সামনাসামনি বলব।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক সদস্যসচিব মো. রহমতুল্লাহ বলেন, ‘প্রেসক্লাব আছে সরকারি জায়গায়। সাংবাদিকেরা কেন সরকারি জায়গায় বসবে? অন্য কোনো জায়গায় প্রেসক্লাব করলে প্রয়োজনে আমি ভাড়া দেব। কিন্তু এই প্রেসক্লাব রাখব না।’

মো. রহমতুল্লাহ অভিযোগ করেন, এই প্রেসক্লাব থেকে স্বৈরাচারের আমলে অনেক খারাপ কাজ হয়েছে। জঙ্গি নাটক সাজানো হয়েছে। এই প্রেসক্লাবের ওপর সাধারণ মানুষের অভিশাপ আছে।

এর আগে ২০১০ সালে একটি সংবাদ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতাউর রহমান খানের নির্দেশে তাঁর দলীয় কর্মীরা প্রেসক্লাবে তালা মেরে দিয়েছিলেন। পরে প্রেসক্লাবটি আবার চালু হয়।

২০১৩ সালে বিএনপির প্রয়াত ভাইস চেয়ারম্যান ও মন্ত্রী মরহুম ব্যারিস্টার আমিনুল হক প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এই ক্ষোভে এলাকার তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্দেশে বুলডোজার দিয়ে প্রেসক্লাবটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরের বছর সংস্কার করে পুনরায় এটি চালু করা হয়।

এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দিন আগুন দিয়ে প্রেসক্লাবটি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ১৯ মাস বন্ধ থাকার পর সংস্কার করে চলতি মাসে প্রেসক্লাবটি চালু করা হয়।

ছোট ভাইয়ের হাঁসুয়ার কোপে বড় ভাই নিহত

সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্য থেকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী দাবি

রুয়েটে ক্লাস চলাকালে ঘাড়ে সিলিং ফ্যান পড়ে শিক্ষার্থী আহত

প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবিতে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে মানববন্ধন

পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আইসিইউ না পেয়ে মরছে শিশু

‘হেলমেট বাহিনী’ এখন ‘গুপ্ত বাহিনী’: মিনু

৫ আগস্টের আগে-পরে নিহতদের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা: আইজিপি

স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে গীতা পাঠে জামায়াত এমপির ‘বারণ’, শোনেননি ইউএনও

রাজশাহীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ওয়ান শুটারগান ও রাবার বুলেট উদ্ধার