নাটোরের লালপুরে এক ভ্যানচালকের চুরি যাওয়া এক মাস বয়সী কন্যাশিশুটিকে খুঁজে দিয়েছেন স্থানীয় এক নারী। পরে নিঝুম নামের নবজাতককে আদালতের মাধ্যমে পরিবারে কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের লক্ষণবাড়ীয়া এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে উপজেলার আড়বাব ইউনিয়নের লক্ষণবাড়ীয়া এলাকায় নবজাতককে কোলে নিয়ে এক তরুণীকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন স্থানীয় এক নারী। সেই নারী ফেসবুকে নবজাতক চুরির খবরটি জানতেন। তাঁর সন্দেহ হলে তিনি তরুণীকে নবজাতক সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এমতাবস্থায় ওই তরুণী ভয়ে শিশুটিকে সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরে স্থানীয় ওই নারী নবজাতককে উদ্ধার করে নবীনগর গ্রামে নিয়ে আসেন। পরবর্তীকালে শিশুটিসহ উদ্ধারকারী নারীকে থানায় নেওয়া হয়।
শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নবীনগর গ্রামের আরশেদ মোল্লার মেয়ে বিজলী খাতুনের বিয়ে হয়েছে পাশের নূরুল্লাপুর গ্রামের নবীনগর গ্রামের অটোভ্যানচালক লালন উদ্দিন লালুর সঙ্গে। এক মাস আগে তাঁদের একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। তাই তিনি বাবার বাড়িতে (নবীনগর গ্রামে) অবস্থান করছিলেন। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লালুর স্ত্রী বিজলি খাতুন (৩৮), তাঁর মা ফরিদা বেগম ও ভাবি রেহেনা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে শিশুটির চিকিৎসার জন্য লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। এ সময় ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয়ের এক তরুণী তাঁদের পিছু নেন। পরে তিনি নিজেকে বিপদগ্রস্ত দাবি করে তাঁদের কাছে সহায়তা চান।
মানবিক কারণে বিজলি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ওই তরুণীকে সঙ্গে নিয়ে নবীনগর গ্রামে বিজলির বাবার বাড়িতে আশ্রয় দেন। দিন শেষে আসরের নামাজের পর সন্ধ্যার দিকে ওই তরুণী বিজলির কাছ থেকে শিশুটিকে কোলে নেন। এরপর কৌশলে শিশুটিকে নিয়ে পালিয়ে যান। দীর্ঘক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। এমন খবরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় গতকাল রাতে শিশুটির মা বিজলি খাতুন বাদী হয়ে লালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করে।
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধারকারী নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে নবজাতকসহ নাটোর আদালতে পাঠানো হয়। আদালতের মাধ্যমে শিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।