বিএনপি, যুবদল ও জামায়াতের তিনজন নেতা মিলেমিশে এক ব্যবসায়ীর ইজারা নেওয়া রাজশাহীর শহীদ জিয়া শিশুপার্ক দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট থেকে পার্কটিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন আনোয়ার হোসেন নামের ওই ইজারাদার। তিনি রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি। পার্কটির নিয়ন্ত্রণ হারানোর পাঁচ দিন আগে আওয়ামী সরকারের পতনের দিন থেকেই তিনি পলাতক। ছাত্র-জনতার ওপর হামলার অভিযোগে রাজশাহীতে একাধিক মামলা হয়েছে আনোয়ারের নামে।
শহীদ জিয়া শিশুপার্কটি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক)। ইজারাগ্রহীতা আনোয়ারের প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স উম্মে রোমান এন্টারপ্রাইজ। বর্তমানে পার্কটি পরিচালনা করছেন স্থানীয় জামায়াত নেতা রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি শাকিলুর রহমান, শাহমখদুম থানা বিএনপির সদস্যসচিব নাসিম খান এবং নগর যুবদলের সদস্য আরিফুজ্জামান সোহেল।
পার্কটি বেদখল হয়ে যাওয়ায় ইজারাগ্রহীতা আনোয়ার ১১ মার্চ রাসিকের সচিবের দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, পার্কটি বাংলা ১৪৩১, ১৪৩২ ও ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের মেয়াদে ইজারাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি যথাযথভাবে পরিচালনা করছিলেন। ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত পার্কটি সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্র অবৈধভাবে দখল করে নেয়। এতে তিনি আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই তিনি তাঁকে পার্ক বুঝিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান।
শাকিলুরের বিরুদ্ধে পার্ক দখলের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল বলেন, ‘শাকিল পলিটেকনিক শিবিরের সাবেক সভাপতি, এটা অনেক আগের কথা। এখন তিনি আমাদের সমর্থক। আমরা জানি, পার্ক তিনি কারও কাছ থেকে ইজারা নিয়েছেন। দখলের বিষয়ে জানা নেই।’
গতকাল রোববার সকালে পার্কের প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকতেই দেখা যায়, বাস, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের পার্কিংয়ের জন্য স্লিপ দিয়ে টাকা নিচ্ছেন হাসিবুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। হাসিবুল জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শাকিলুর, নাসিম ও আরিফুজ্জামান পার্কটি পরিচালনা করছেন।
পার্কে পাওয়া যায় ব্যবস্থাপক নাজমুল মুজাহিদ হোসেনকে। তিনি জানান, পার্কের আয়ের অর্থ নিয়ে যান শাকিলুর, নাসিম ও আরিফুজ্জামান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘শাকিল নাকি পার্ক ইজারাদারের কাছ থেকে বুঝে নিয়েছে। কিছু সংস্কারকাজের জন্য তখন আমি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। কিন্তু শাকিল কোনো হিসাব দেয় না, লাভও দেয় না।’
বিএনপি নেতা নাসিম বলেন, ‘পার্ক দখলের অভিযোগ সঠিক না। ইজারা নেওয়া প্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের দোসর, খুনি। সিটি করপোরেশনকে কিস্তি না দিয়েই পালিয়েছে। আমরা কিস্তি পরিশোধ করে আসছি। সেই রসিদও আমাদের কাছে আছে।’
জামায়াত নেতা শাকিলুর বলেন, ‘ইজারা গ্রহণকারী আনোয়ার ৫ আগস্টের পরও এলাকায় ছিলেন। আওয়ামী লীগের সবাই তো পলাতক না। তখন সে পার্ক চালাতে পারবে না বলে আমাদের জানান। ওই সময় আমরা অ্যাফিডেভিট করে তাঁর কাছ থেকে পার্ক নিয়েছি। সিটি করপোরেশনের কিস্তিও আমরা দিয়ে আসছি। শেষ দুটি কিস্তি দিতে পারিনি। এ জন্য সে অভিযোগ করেছে। তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছে। এটা ভুল-বোঝাবুঝি।’