রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় বাসডুবির সেই মর্মান্তিক ঘটনায় ঝরে গেছে অনেক প্রাণ। তাঁদেরই একজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রাইয়ান। একজন স্বপ্নবাজ তরুণ, মেধাবী শিক্ষার্থী ও সক্রিয় সংগঠক। মা, বোন ও ভাগনের সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় ফেরার পথে পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ গেছে তাঁর। সেই সঙ্গে মারা গেছেন তাঁর মা ও আট বছরের ভাগনে। প্রাণে বেঁচে গেছেন বোন।
রাজবাড়ী শহরের ভবানীপুর এলাকায় রাইয়ানের বাড়ি এখন চলছে স্বজনহারার আহাজারি। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাইয়ান, তাঁর মা রেহানা আক্তার ও ভাগনে তাজবিদের জানাজা শেষে ভবানীপুর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। একই পরিবারে তিনজনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
রাইয়ানের স্বজন ফারুক হোসেন বলেন, রাইয়ান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী। শুধু পড়াশোনায় নয়, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ বিতার্কিকও। স্কুলজীবন থেকেই জাতীয় পর্যায়ে বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়েও যুক্ত ছিলেন বিতর্কচর্চায়। যুক্তি, বুদ্ধি আর সচেতনতার আলো ছড়ানোই ছিল তাঁর স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল পদ্মার গভীরে। ফারুক হোসেন আরও বলেন, রাইয়ান শুধু একজন শিক্ষার্থী ছিলেন না, ছিলেন একজন সচেতন নাগরিক। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনসহ নানা সামাজিক উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন তিনি।
আরেক স্বজন সাদ আহম্মেদ সাদি বলেন, ঈদের ছুটি কাটাতে বাড়ি এসেছিলেন রাইয়ান। পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটিয়ে আবার ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মা রেহানা আক্তার, চিকিৎসক বোন ডা. নুসরাত জাহান খান এবং বোনের আট বছর বয়সী ছেলে তাজবিদকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন তিনি। বিকেলে রাজবাড়ী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে ওঠেন তাঁরা।
কিন্তু দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছে ঘটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। পন্টুনে ওঠার সময় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে তলিয়ে যায়। সে সময় বাসের ভেতরে ছিলেন রাইয়ান, তাঁর মা-বোন ও বোনের ছেলে। সৌভাগ্যক্রমে রাইয়ানের বোন নুসরাত জাহান খান জীবিত বের হতে পারলেও রাইয়ান, মা রেহানা আক্তার ও তাজবিদ প্রাণ হারায়।
সাদ আহম্মেদ সাদি আরও বলেন, দুর্ঘটনার রাতেই লাশগুলো বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। পুরো বাড়িজুড়ে এখন শুধুই কান্না আর শোকের মাতম। গত ডিসেম্বরে মারা যান রাইয়ানের বাবা। সেই শোক কাটতে না কাটতেই এমন নির্মম আঘাত নেমে এসেছে।