রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় পদ্মায় পড়ে যাওয়া সেই বাসচালকের লাশ তাঁর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরের পর আরমান খানের (৩২) লাশ জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খালকুলা গ্রামে নিয়ে যান স্বজনেরা।
জানা গেছে, আরমান পশ্চিম খালকুলা গ্রামের আরব খানের ছেলে। তাঁর স্ত্রী লাবনী খাতুন অন্তঃসত্ত্বা। তাঁদের দুটি শিশুসন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে এবং ছোট মেয়ের বয়স পাঁচ বছর।
এদিকে নিজে অন্তঃসত্ত্বা, অন্যদিকে দুটি শিশুসন্তান। এমন অবস্থায় স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। স্বামীর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কান্নায় ভেঙে পড়েন লাবনী খাতুন। এ সময় আরমানের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। আসরের পরে তাঁর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
লাবনী খাতুন জানান, তাঁর স্বামী ঈদুল ফিতরের দুই দিন আগে বাস চালাতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। সাত দিন পর বাড়িতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় তাঁর সব শেষ হেয়ে গেল।
গতকাল বুধবার বিকেলে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। আরমান ওই বাসের চালক ছিলেন। ওই দুর্ঘটনায় সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০-১১ জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।