রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া তিন নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে বাসডুবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ। এদিকে এ দুর্ঘটনা তদন্তে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসনের একটি কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাঁচ সদস্যের আরেকটি কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। আজ দুপুরে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার এ কথা জানিয়েছেন।
এদিকে আজ দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ বলেন, ‘ফেরির পন্টুনগুলোতে রেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। যারা ফেরি ও ঘাট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আধুনিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’
গতকাল বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পাড়ি দিতে অপেক্ষমাণ ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে। ঢাকার উদ্দেশে বাসটি ছাড়ার সময় মাত্র যাত্রী ছিলেন ছয়জন। এরপর একে একে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। সব মিলিয়ে বাসটি কমপক্ষে ৫০ যাত্রী ছিলেন বলে কাউন্টার মাস্টার জানিয়েছেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জের আরিচা এবং ঢাকা হেড কোয়ার্টারের পাঁচটি ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে হতাহত ব্যক্তিদের উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।
আজ সরেজমিনে দেখা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং নৌবাহিনীর দুটি ডুবুরি দলের সদস্যদের উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর সদস্য, কোস্ট গার্ডের সদস্য, পুলিশ সদস্য এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
দৌলতদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, এখন পর্যন্ত (বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা) মোট ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৮ জন, নারী ১১ জন, ছেলেশিশু ৪টি এবং মেয়েশিশু ৩টি। তাঁদের মধ্যে ২৩ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকিদের লাশ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।