নড়াইলের কালিয়ায় ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জবাই করা গরুর মাংসের ভাগ চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ২৫ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে ১৪ জনের ছররা গুলিবিদ্ধ হওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
উপজেলার পুরুলিয়া ইউনিয়নের নোয়া গ্রামে গতকাল সোমবার (২৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ এ ঘটনায় ২০ জনকে আটক করেছে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন বাঁধন মোল্যা, মাহাবুব মোল্যা, রমজান মোল্যা, নাহিদ মোল্যা, টুটুল মোল্যা, শাহীদুল মোল্যা, রাজা মোল্যা, তামিম মোল্যা, মিন্টু মোল্যা, ঝুনু মোল্যা, সুমন মোল্যা ও আজানুর শেখ। সব মিলিয়ে অন্তত ২৫ জন আহত হন। তাঁদের নড়াইল জেলা সদর হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার ঈদুল ফিতরের দিন নোয়া গ্রামের মাহবুবুর শেখের পক্ষের লোকজনের কাছে গরুর মাংসের ভাগ চান খায়রুল মোল্যার পক্ষের সালমান ও আসলাম। অন্যরা মাংসের ভাগ পেলেও এই দুজনকে ভাগ না দেওয়ায় দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
কথা-কাটাকাটির জেরে গতকাল রাত সাড়ে ৭টার দিকে মাহবুবুর শেখের পক্ষের লোক জরিপ শেখের ওপর হামলা ও মারধর করে প্রতিপক্ষ। এ নিয়ে রাত ৮টার দিকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ চলাকালে ছোড়া শটগানের ছররা গুলিতে ১৪ জন আহত হন। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা সবাই মোল্যা পক্ষের সমর্থক বলে জানান খায়রুল মোল্যা।
নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক অলোক কুমার বাগচী বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৪ জনের শরীরে ছররা গুলি পাওয়া গেছে। সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী সংঘর্ষের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে উভয় পক্ষের ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলা চলাকালে কে বা কারা গুলি ছুড়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।