নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা। চলতি বছরের জানুয়ারি ও মার্চ—এই দুই মাসে ১১ বছর বয়সী শিশুসহ বিভিন্ন বয়সের ১১ জন আত্মহত্যা করেছেন। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে কোনো আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেনি। এর আগে গত বছর এই উপজেলায় মোট ৩৬ জন আত্মহত্যা করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এভাবে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়লেও এখন পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তবে আত্মহত্যার কারণ চিহ্নিত করে জনসচেতনতা বাড়াতে দ্রুত সভা-সেমিনারের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান।
রাণীনগর থানার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৮ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে পাঁচজন এবং ২ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত আরও ছয়জন আত্মহত্যা করেন।
জানুয়ারিতে আত্মহত্যা করা ব্যক্তিরা হলেন—উপজেলার বিশিয়া গ্রামের সবুর আলীর ছেলে আরাফাত হোসেন (১৯), চাকদিন গ্রামের জামাল বেগের ছেলে রুহুল আমিন (২৭), মালিপাড়া গ্রামের আত্তাব হোসেনের মেয়ে সাদিয়া আক্তার (১৪), ছাতারবাড়িয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে রিভা আক্তার (২২) এবং রাজাপুর মধ্য সরদারপাড়া গ্রামের সবুজ সরদারের স্ত্রী মৌমিতা নাইমা (৩০)।
অন্যদিকে মার্চ মাসে আত্মহত্যা করেন আগিনাগাড়ী গ্রামের জুয়েল হোসেনের ছেলে রাকিবুল মুন্না (১১), রাতোয়াল রাখালগাছীপাড়া গ্রামের রিপন আলীর মেয়ে রোবাইয়া আক্তার (২০), বিশিয়া গ্রামের শহিদুলের স্ত্রী শিউলি বিবি (৪২), বিজয়কান্দি বড়বড়িয়া গ্রামের আব্দুল মজিদের স্ত্রী শিলামনি (২৫), বড়িয়া গ্রামের আনছার আলীর ছেলে সুজন আলী (৩৫) এবং ছয়বাড়িয়া গ্রামের সহিদ ফকিরের ছেলে জহির ফকির (৪৫)। এসব ঘটনায় থানায় পৃথক অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যাকারীদের কেউ গলায় ফাঁস দিয়ে, আবার কেউ কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মানসিক সমস্যা, অভিমান, পারিবারিক কলহ বা অজ্ঞাত কারণ উল্লেখ করা হয়েছে।
মালিপাড়া গ্রামের আত্তাব হোসেন জানান, তাঁর মেয়ে সাদিয়া আক্তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। মোবাইল ব্যবহার করতে নিষেধ করায় মায়ের ওপর অভিমান করে সে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করে।
ছয়বাড়িয়া গ্রামের মাহফুজ হোসেন বলেন, তাঁর বাবা জহির উদ্দীন দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং নিয়মিত রক্ত দিতে হতো। শারীরিক যন্ত্রণায় তিনি গ্যাসের ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেন।
চাকদিন বাঘপাড়া গ্রামের ওমর ফারুক বলেন, তাঁর বড় ভাই রুহুল আমিন স্ত্রীর সঙ্গে অভিমানের জেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ বলেন, হতাশা, মানসিক আঘাত, অবহেলা, পারিবারিক অভাব-অনটন, কুসংস্কার এবং অল্প বয়সীদের অতিরিক্ত আবেগ বা প্রেমঘটিত কারণে অনেক সময় আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক সহমর্মিতা ও সামাজিক উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, আত্মহত্যা প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংগঠনের তেমন কার্যক্রম চোখে পড়েনি। তবে আগামী মাসিক আইনশৃঙ্খলা ও এনজিও সমন্বয় কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা করে জনসচেতনতা বাড়াতে দ্রুত সভা-সেমিনারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।