যশোরে আলমগীর হোসেন (৪০) নামের এক চালককে খুন করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার সদরের সুতিঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আলমগীর চাঁচড়া বড় মাদ্রাসা এলাকার মৃত রজব আলীর ছেলে। তিনি ঝুমঝুমপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশ ও নিহত আলমগীরের স্বজনেরা জানান, সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে ইফতার শেষে রিকশা নিয়ে বের হন আলমগীর। পরে দুর্বৃত্তরা অটোরিকশার যাত্রী সেজে উঠে নিয়ে যান সুতিঘাটা এলাকার নির্জন সড়কে।
পরে সড়কের পাশ থেকে চালককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে এলাকাবাসী যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন বলেন, ‘রিকশাচালককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। যেহেতু রিকশা মিসিং রয়েছে, ধারণা করছি, ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।’
এদিকে যশোরে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের টার্গেট হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। তিন ও চার চাকার এসব যানবাহন ছিনতাই করতে তারা দ্বিধা করছে না চালককে খুন করতে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত যশোরে ১০টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে অটোরিকশা ও অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে। এ ছাড়া প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটছে। ঋণে কেনা এসব যানবাহনের সঙ্গে উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলো।
অটোরিকশাচালকেরা বলছেন, প্রতিটি যন্ত্রাংশ আলাদাভাবে খুব সহজেই বিক্রি করা যায় বলেই ছিনতাইয়ে আগ্রহ বেশি এসব যানের। প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বিগ্ন চালকেরা।