জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মুন্নী আক্তার ভোটারদের আমানতসহ বেঁচে থাকার অধিকার চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে খোলা চিঠি লিখেছেন। তিনি তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের মানুষ। হিজড়া মানবকল্যাণ সংস্থার সভাপতি পদে তিনি দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
গত রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে মুন্নী আক্তার তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে ওই চিঠি পোস্ট করেন।
মুন্নী আক্তারের লেখা চিঠিটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি মুন্নী আক্তার—আপনার কাছে আমার ২৩৭৬৮ জন ভোটারের আমানত আর আমার বেঁচে থাকার অধিকার ভিক্ষা চাইছি।
আমি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। আমি এ দেশের অবহেলিত ও অনগ্রসর ’তৃতীয় লিঙ্গ’ (হিজড়া) জনগোষ্ঠীর একজন আজীবন সংগ্রামী সদস্য। আমি মানুষের কাছে হাত পাতার (ভিক্ষা ভিত্তি) গ্লানিময় জীবন প্রত্যাখ্যান করে সম্মানের সাথে জনসেবা করার পথ বেছে নিয়েছিলাম।
বিগত ২১ মে ২০২৪-এর নির্বাচনে ৫ জন শক্তিশালী প্রার্থীকে হারিয়ে আমি ২৩ হাজার ৭৬৮টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলাম। সাধারণ মানুষের এই অকুণ্ঠ সমর্থন প্রমাণ করে যে তাঁরা আমাকে একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধি হিসেবে গ্রহণ করেছে। কিন্তু গত (বছরের) ১৯ আগস্ট এক নির্বাহী আদেশে আমাকে অপসারণ করা হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার প্রতি আমার আকুল আবেদন, আমি কোনো রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত নই। আমি শুধু মানুষের সেবা করতে চেয়েছিলাম। আজ যদি আমার এই ন্যায্য অধিকার ও পদটি ফিরিয়ে না দেওয়া হয়, তবে একজন লড়াকু মানুষ হিসেবে আমার বেঁচে থাকার সকল অনুপ্রেরণা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাতার জীবনে আমি আর ফিরে যেতে চাই না। আমার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে অপমানের জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুও আমার কাছে শ্রেয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে মুন্নী আক্তার লেখেন—আপনার একটি মহানুভব সিদ্ধান্ত আমার এবং আমার জনগোষ্ঠীর হাজার হাজার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে। আমাকে বিশেষ ও মানবিক কারণে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল করে পুনরায় জনসেবা করার সুযোগ প্রদানে আপনার সদয় নির্দেশ কামনা করছি।
আমি বিশ্বাস করি, আপনি আমার মতো একজন প্রান্তিক মানুষের জীবন সংগ্রাম এবং ২৩ হাজার ৭৬৮ জন ভোটারের পবিত্র আমানতের প্রতি সুবিচার করবেন।
যোগাযোগ করা হলে মোবাইল ফোনে মুন্নী আক্তার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে আমাদের ক্ষমতা খর্ব করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি লিখে জনগণের ভোটের অধিকার ফেরত চেয়েছি।’