পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নাড়ির টানে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের লাখো মানুষ। বেতন ও ছুটি পাওয়ার পর সোমবার (১৬ মার্চ) বিকেল থেকেই শুরু হয়েছে এবারের আনুষ্ঠানিক ঈদযাত্রা। ধাপে ধাপে শিল্পকারখানা ছুটি, সুশৃঙ্খল ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে যাত্রার প্রথম দিনটি ছিল স্বস্তিদায়ক। এখন পর্যন্ত মহাসড়কের কোথাও বড় ধরনের যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মঙ্গলবার থেকে সরকারি ছুটি সাত দিনের হলেও পোশাক কারখানাগুলোতে এবার ৭ থেকে ১০ দিনের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ ও মালিকপক্ষ।
সোমবার বিকেল থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কারখানা ছুটি হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এই ছুটি ১৯ মার্চ পর্যন্ত চলবে। ফলে শ্রমিকেরা চার দিন ধরে ভাগে ভাগে গন্তব্যে যেতে পারবেন, যা যানজট ও ভোগান্তি কমাতে সহায়ক হবে। অনেক শ্রমিক ইতিমধ্যে পরিবার-পরিজনকে আগেই গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া এখনো বৃষ্টি না হওয়ায় মহাসড়কে জলাবদ্ধতা বা খানাখন্দ না থাকায় এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর আওতাধীন ২ হাজার ৮৩৪টি কারখানার মধ্যে ২ হাজার ৭৫৩টিতে ঈদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সোমবার ১০ শতাংশ (৬২টি), মঙ্গলবার ২৫ শতাংশ (৪৪৪টি), বুধবার ৪০ শতাংশ (১৪১৪টি) এবং বৃহস্পতিবার বাকি ৮৩৩টি কারখানায় ছুটি হবে।
আজ মঙ্গলবার বিকেল থেকে মহাসড়কে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরেজমিনে তদারকি করছেন।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আমজাদ হোসেন বলেন, অধিকাংশ কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ হওয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ নেই। তবে প্রায় ৫ শতাংশ কারখানায় ফেব্রুয়ারির বেতন এবং ৯ শতাংশ কারখানায় ঈদ বোনাস বকেয়া রয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে তা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। মহানগরের ভোগড়া এলাকার শ্রমিক সোহেল মিয়া বলেন, আগে সবাই একই দিনে ছুটি পেলে বাস বা ট্রেনে তিল ধারণের জায়গা থাকত না। এবার ভাগ হয়ে যাওয়ায় যাত্রা কিছুটা সহজ হবে। তবে যাঁরা এখনো বেতন পাননি, তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে গাজীপুর মহানগর পুলিশ ও জেলা পুলিশ বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় মহানগর পুলিশের প্রায় ১ হাজার এবং জেলা পুলিশের ৮৫৯ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশ, শিল্প পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরাও কাজ করছেন। যাত্রাপথে যানবাহন বিকল হলে দ্রুত অপসারণে ৯টি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
চান্দনা চৌরাস্তা উড়ালসড়ক চালু থাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চাপ কম থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষ করে কালীগঞ্জের বিশ্বরোড এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার বলেন, ‘নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে হাইওয়ে ও শিল্প পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। শ্রমিকেরা যেন ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারেন, সে জন্যই ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়া হয়েছে। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ও অবৈধ পার্কিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, গতবারের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রা বেশি স্বস্তিদায়ক হবে।’