জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেলোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ফের চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেন তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এই মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই কফিল উদ্দিন এক-এগারোর আলোচিত সাবেক সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
৭ এপ্রিল এই মামলায় তাঁকে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় দেলোয়ার হোসেনকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত দেলোয়ার হোসেনকে প্রথমে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে এবং পরে শ্যামলীর সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ জুলাই মারা যান তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল নিহতের স্ত্রী মোসাম্মাৎ লিজা আক্তার এই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুনরায় রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে আসামির কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা মামলার তদন্তকাজে সহায়ক হবে। আসামির দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। এ অবস্থায় আসামির দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো যাচাই করার জন্য ফের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
৪ এপ্রিল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা মানব পাচার মামলায় তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। গত ২৯ মার্চ একই মামলায় তাঁকে দ্বিতীয় দফায় ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এর আগে ২৪ মার্চ তাঁকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। পল্টন থানায় দায়ের করা মানব পাচার মামলায় টানা ১৪ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে। এরপর মিরপুর থানায় দায়ের করা এই হত্যা মামলায় দুই দফা রিমান্ডে নেওয়া হলো। গ্রেপ্তারের পর এ নিয়ে মোট পাঁচ দফা রিমান্ডে নেওয়া হলো সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে।
গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার ২ নম্বর লেনের ১৫৩ নম্বর বাড়ি থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।