ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান খান এবং ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক ও আতিকুরের স্ত্রী নাহিদা ইসলাম নিপার বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ নির্দেশ দেন বলে জানান দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজির আহমেদ।
দুদকের উপপরিচালক মানসী বিশ্বাস দুজনের স্থাবর সম্পদ ক্রোক চেয়ে পৃথক দুটি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন।
দুদকের আবেদন অনুযায়ী আতিকুর রহমান খানের খিলগাঁওয়ের বনশ্রী গার্ডেনের একটি ভবনের চারটি ফ্ল্যাট, আরেকটি ভবনের ১ হাজার ১৮০ বর্গফুটের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ও পৃথক তিনটি ভবনের নিচতলার জায়গা ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুরের কালীগঞ্জ আজমপুরসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা ৪২টি দলিলের ৯৫২ শতাংশ জমি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে নাহিদা ইসলাম নিপার রাজধানী বাড্ডার ছয়তলা ভবনের একটি বাড়ি (প্রতিতলা ২৩০০ বর্গফুট) ও সাড়ে তিন কাঠার একটি জমি ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের ও অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করেছেন। আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ২ কোটি ৩৫ লাখ ১ হাজার ১৩৫ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ১ কোটি ৭৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫ টাকা সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। তিনি ৪৭টি ব্যাংক হিসাবে ‘ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত’ ৭ কোটি ২৬ লাখ ৩৭ হাজার ৪৯ টাকার অবৈধ প্রকৃতি, উৎস ও অবস্থান গোপন করেন।
ওই মামলার তদন্তকালে দুদক জানতে পেরেছে আতিকুর রহমান খান যেকোনো সময় ওই সম্পদ বিক্রয়, হস্তান্তর ও স্থানান্তর করতে পারেন। এই কারণে ওই সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া জরুরি প্রয়োজন। অন্যথায় বিচার শেষে অবৈধভাবে অর্জিত এসব সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না।
নাহিদা ইসলাম নিপার বিষয়ে আবেদনে বলা হয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। এ কারণে তাঁর স্থাবর সম্পদও ক্রোকের নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন।