হোম > সারা দেশ > কুমিল্লা

ধর্ষণ মামলার আসামি জিসানকে ‘সুস্থ’ বলছে মেডিকেল বোর্ড, যেকোনো মুহূর্তে ছাড়পত্র

কুমিল্লা প্রতিনিধি

ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার জিসান। ছবি: সংগৃহীত

ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বহিষ্কৃত নেতা জিসান মিয়া প্রধানের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছে। বোর্ডের পর্যবেক্ষণে তাঁর শারীরিক অবস্থায় গুরুতর কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন এই আসামিকে যেকোনো সময় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে। হাসপাতালসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে গঠিত চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড জিসানের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার নথি ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে তাদের মতামত চূড়ান্ত করে। পরে প্রতিবেদনটি হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।

মেডিকেল বোর্ডের সদস্যসচিব ও হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, রোগীর সার্বিক শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে বোর্ড একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। সেটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করার সুযোগ নেই বলে তিনি জানান। জাহিদুর রহমান মজুমদার বলেন, বোর্ডের পর্যবেক্ষণে রোগীর অবস্থা উদ্বেগজনক বলে প্রতীয়মান হয়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজ সকালে বোর্ডের সদস্যরা পরিচালকের কার্যালয়ে বৈঠক করেন। পরে তাঁরা হাসপাতালে ভর্তি জিসান মিয়ার কেবিনে গিয়ে সরাসরি তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। একই সঙ্গে তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র ও পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করা হয়। এসব তথ্য বিশ্লেষণের পর তাঁর শরীরে এমন কোনো জটিলতা পাওয়া যায়নি, যা দীর্ঘমেয়াদি হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক নিশাত সুলতানা বলেন, মেডিকেল বোর্ড তাদের প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। তবে সব সদস্যের স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে তা কার্যকর হবে। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে।

এর আগে গতকাল রোববার কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহানের স্বাক্ষরিত এক আদেশে চার সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. হেলালুর রহমান। সদস্য হিসেবে ছিলেন নিউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুল্লাহ আল হাসান এবং সাইকিয়াট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক মো. শাহেদুল ইসলাম। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান মজুমদার।

বর্তমানে কুমেক হাসপাতালের পুরোনো ভবনের একটি কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জিসান মিয়া। কেবিনের বাইরে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, মেডিকেল বোর্ডের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা মহানগর শাখার সভাপতি হাছান আহমেদ বলেন, জিসান মিয়ার বিরুদ্ধে প্রেমের সম্পর্ক থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর সংগঠনের নীতিমালা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সাম্প্রতিক অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য কেন্দ্রীয় নেতারা কুমিল্লায় এসেছিলেন। তাঁরা হাসপাতালে গিয়ে জিসানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও সে সুযোগ পাননি।

হাছান আহমেদ আরও বলেন, ‘আজ বিকেলেও আমরা তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা জানতে হলে জিসানের পাশাপাশি অভিযোগকারী নারীর সঙ্গেও কথা বলা প্রয়োজন। সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়ার পরই আমরা বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা লাভ করতে পারব।’

গত শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসান মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের দাবি, তিনি নিখোঁজ ছিলেন এবং অচেতন অবস্থায় তাঁকে পাওয়া গেছে। তবে পুলিশের দাবি, তাঁকে অপহরণ করা হয়নি; তিনি আত্মগোপনে ছিলেন।

জিসান মিয়া ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে দাউদকান্দির এক নারীর করা মামলায় একাধিকবার ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।

এ মামলায় জিসানের সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া অপর তিন আসামি সেকান্দর আলী, গোলাম রাব্বী ও সজীব হাসানকে ইতিমধ্যে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চর দখলের দ্বন্দ্বে রণক্ষেত্র মেঘনা-তিতাস, আহত ৩০

ইসলামী ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ সরানোর অভিযোগে ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার জিসানের জন্য মেডিকেল বোর্ড

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসানকে প্রধান আসামি করে মামলা

কুমিল্লায় শিবির নেতা নিখোঁজ হননি, বিধবার সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতায় আত্মগোপন করেন: পুলিশ

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান প্রধান নিখোঁজ

প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অবশেষে ছেলের নতুন ভবনে ঠাঁই মায়ের

হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই সেতুর নির্মাণকাজ চলছে দাউদকান্দিতে

কুমিল্লায় বেকারি প্রতিষ্ঠানকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা

দাউদকান্দিতে মাদক, কিশোর অপরাধ ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের শপথ