খুলনায় বদলির আদেশ হওয়া চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম কায়সার আলীর শেষ কার্যদিবস ছিল গত ৩০ মার্চ। বিদায় বেলায় তিনি ১৪ জনকে বিভিন্ন গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) হিসেবে পদায়ন করেন। ওইসব কর্মকর্তাকে পুরস্কার হিসেবে তিনি পদায়ন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তোপের মুখে এ দিন রাতেই বাতিল করা হয় কর্মকর্তাদের পদায়ন আদেশ। বিষয়টি নিয়ে খাদ্য বিভাগে তোলপাড় চলছে। অর্থের বিনিময়ে বিদায় বেলায় খাদ্য নিয়ন্ত্রক এই কাজ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম কায়সার আলীকে খুলনার আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়। গত সোমবার (৩০ মার্চ) ছিল তাঁর শেষ কর্মদিবস। ওই দিন দায়িত্ব ছাড়ার আগে তিনি ১৪ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) হিসেবে পদায়নের আদেশ দেন।
সূত্র জানায়, এসব পদায়নকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠে। সাধারণত এ ধরনের পদায়ন অফিসের ‘ডি নথি’র মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ার নিয়ম থাকলেও এ ক্ষেত্রে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের সরাসরি স্বাক্ষরে আদেশ জারি করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে খাদ্য বিভাগে আলোচনা শুরু হলে তা মন্ত্রণালয়ের নজরেও আসে। পরে গত সোমবার রাতেই ১৪ কর্মকর্তার পদায়ন আদেশ বাতিল করা হয়।
বাতিল হওয়া দপ্তরাদেশের কপি থেকে জানা গেছে, মোট ১৪টি স্মারকের মাধ্যমে পদায়ন আদেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে চারটি স্মারক গত সোমবার ইস্যু করা হয়। বাতিল হওয়া স্মারকগুলো হলো—২৮৬(ম), ২৮৮(ম), ২৮৯(ম), ২৯০(ম), ২৯১(ম), ২৯৩(ম), ২৯৪(ম), ২৯৫(ম), ২৯৬(ম), ২৯৭(ম), ৩১৫(ম), ৩১৬(ম), ৩১৭(ম) ও ৩১৮(ম)।
এ বিষয়ে সদ্য বিদায়ী চট্টগ্রামের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক এস এম কায়সার আলী বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ তবে ১৪ কর্মকর্তার পদায়ন আদেশ বাতিলের বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, পদায়নগুলো নিয়ম অনুযায়ী করা হয়েছিল। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।