ঈদ মানেই আনন্দ, প্রিয়জনের সান্নিধ্য আর ঘরে ফেরার উচ্ছ্বাস। তবে সরকারি শিশু পরিবারে বেড়ে ওঠা অনেক শিশুর কাছে ঈদের গল্পটা কিছুটা ভিন্ন। এখানে উৎসব আছে, আছে হাসি; কিন্তু তার সঙ্গে মিশে থাকে নিঃসঙ্গতার এক নীরব সুর।
ঈদকে ঘিরে শিশু পরিবারে থাকে নানা আয়োজন। নতুন পোশাক বিতরণ, বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা এবং দিনব্যাপী ছোটখাটো বিনোদনের আয়োজন করা হয়। সকালে সবাই একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করে। এরপর সেমাই, ফিরনি ও উন্নত খাবারে সাজানো হয় দিনের বিশেষ আয়োজন। যেন এক ছাদের নিচে গড়ে ওঠা ছোট্ট একটি পরিবারের প্রতিচ্ছবি।
তবে এই আনন্দের মাঝেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে না-পাওয়ার এক গভীর অনুভূতি। মা-বাবার সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো কিংবা পরিবারের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত অনেক শিশু। তাই তাদের ঈদ কিছুটা অপূর্ণই থেকে যায়।
এতিম শিশুদের ভরণপোষণ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং উপযুক্ত মর্যাদায় সমাজে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে সরকারি শিশু পরিবার। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠান দেশের অন্যান্য স্থানের মতো চট্টগ্রামেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের একমাত্র সরকারি শিশু পরিবার (বালক) ঘুরে দেখা যায়, ১০০ শয্যার এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে রয়েছে ৪৭ জন এতিম শিশু। তাদের মধ্যে অনেকেই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে গেলেও ১৮ জন শিক্ষার্থী নিবাসেই ঈদ উদ্যাপন করছে।
শিশু পরিবারের নিবাসী আবিদ মুস্তাফিজ বলে, ‘ঈদের দিন সবার মতো আমরাও নতুন জামা পাই, ভালো খাবার খাই। কিন্তু যখন দেখি অন্যরা পরিবার নিয়ে আনন্দ করছে, তখন নিজের ভেতরে একটা শূন্যতা কাজ করে।’
একই অনুভূতির কথা জানায় আরেক নিবাসী ওয়াসিম তালুকদার। তার ভাষায়, ‘এখানেই আমরা একে অপরের পরিবার হয়ে গেছি। তবুও মাঝে মাঝে নিজের আপন মানুষদের খুব মনে পড়ে।’
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মুহাম্মদ হারুনর রশিদ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করি যাতে শিশুরা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। তাদের জন্য বিশেষ খাবার, নতুন পোশাক ও বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে পরিবারের শূন্যতা তো আর পূরণ করা সম্ভব নয়।’
ঈদের আনন্দ সবার জীবনে একরকম নয়। তবুও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পটিয়া সরকারি শিশু পরিবারের শিশুরা নিজেদের মতো করে উৎসব উদ্যাপন করে। তাদের হাসির আড়ালেই লুকিয়ে থাকে এক নীরব গল্প—নিঃসঙ্গতার সঙ্গে উৎসবের গল্প।