ব্যবসায়ীদের সংগঠন বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমকে ফ্যাসিস্টের দোসর বলায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিনকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, ব্যবসায়ী নেতা হাতেমের ডাকে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা এসে এমপি আল আমিনকে অবরুদ্ধ করেছেন এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছেন। এ ঘটনায় চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি তাঁদের।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ বিসিকে টপ ফ্যাশন নামের একটি কারখানায় ব্যবসায়ীদের জন্য ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন ১১ দলের এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন।
ইফতারের আগমুহূর্তে হাজির হয়ে তিনি স্টেজে বিকেএমইএর সভাপতি হাতেমকে দেখতে পান। এ সময় তিনি স্টেজে না বসে নিচে বসেন। বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি বলেন, ‘আমি স্টেজে বসতে পারছি না, কারণ, ফ্যাসিস্টের দোসরের পাশে আমার বসা সম্ভব না।’
তাঁর এই বক্তব্যের পরপরই মোহাম্মদ হাতেম স্টেজ থেকে নেমে যান এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে বেরিয়ে যান। খবর পেয়ে ইফতারের পর ভবনের নিচে জড়ো হন ফতুল্লা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাসেল ও তাঁর অনুসারীরা।
এ সময় তাঁরা বিক্ষোভ করে এমপিকে হাতেমের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে সেখানে থাকা এনসিপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের হাতাহাতি হয়। খবর পেয়ে ফতুল্লা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
প্রায় ২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাসিনুজ্জামানের নেতৃত্বে এমপি আবদুল্লাহ আল আমিন ও তাঁর নেতা-কর্মীদের বের করে নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁদের শহরের চাষাঢ়া এনসিপির কার্যালয়ে পৌঁছে দেওয়া হয়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘আমি জামায়াতের আমন্ত্রণে সেখানে গিয়েছিলাম। কিন্তু জানতাম না যে সেখানে হাতেম থাকবে। তাকে দেখে আমি স্টেজে বসতে অস্বীকৃতি জানাই।’
আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, ‘আমি বলেছি, ফ্যাসিস্টের দোসরের পাশে আমি বসতে পারব না। এই কথা বলার পরেই সে বেরিয়ে যায় এবং তার লোকজনকে ডেকে এনে আমাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। আমি ডিসি-এসপিকে জানানোর পরে তারা ফোর্স পাঠায়।
ততক্ষণে আপনারা দেখেছেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে এবং আমার কর্মীদের মারধর করতে। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখান থেকে এমপিকে উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসি। এই ঘটনায় আমরা তদন্ত করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেব।’
এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া না দেওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।