ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্যের বিরুদ্ধে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ-বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। বিতর্কিত নিয়োগ বাতিল এবং উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে গতকাল সোমবার গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কাছে শিক্ষামন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরেফিন কাউসার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা মেনেই সমস্ত নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা স্বজনপ্রীতি হয়নি।’
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে যোগদানের পর গত দেড় বছরে উপাচার্য প্রায় ১৫০ জন শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিধি ও ইউজিসির গাইডলাইন চরমভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি গোপন রেখে বা নির্দিষ্ট প্রার্থীকে সুবিধা দিতে শর্ত শিথিল করে অযোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ করতে গিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে।
এতে আরও বলা হয়, যন্ত্রকৌশল বিভাগে তিনজন প্রভাষক নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অতীতে ডিপ্লোমা পর্যায়ে ন্যূনতম সিজিপিএ-৩.৫ চাওয়া হলেও ২০২৫ সালের ২৫ মার্চের বিজ্ঞপ্তিতে তা কমিয়ে ৩ করা হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সিজিপিএ-৩ প্রাপ্ত জহিরুল ইসলামকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এই পরিবর্তন করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ৯ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ পাওয়া মো. সোহেল রানার উচ্চতর ডিগ্রি বা পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও রাজনৈতিক বিবেচনায় তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অপর নিয়োগপ্রাপ্ত মো. ফারুকের ক্ষেত্রে সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরেফিনের সরাসরি প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে। কারণ, ফারুক আগে সহ-উপাচার্যের সঙ্গে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন।
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগে প্রভাষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রে ভুল ও ফলাফল প্রকাশে অহেতুক বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া সেকশন অফিসার পদে পাঁচজন নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা চরমে পৌঁছেছে। বিজ্ঞপ্তিতে ‘মাস্টার্স অথবা এইচএসসি ও চার বছর মেয়াদি স্নাতক’ চাওয়া হলেও, অনেক যোগ্য প্রার্থী আবেদন করতে পারেননি। অথচ ভিসির ঘনিষ্ঠজনেরা এইচএসসি সমমানের সনদ ছাড়াই বিশেষ বিবেচনায় চাকরি পেয়েছেন বলে স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে সাড়া না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।