মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি হিসেবে ফরেন মিনিস্ট্রিতে নিযুক্ত প্রথম নারী রুথ ব্রায়ান ওয়েন। ১৯৩৩ সালের ১৩ এপ্রিল তিনি দায়িত্ব পান ডেনমার্কে যুক্তরাষ্ট্রের দূত হিসেবে। তবে এই পথে ছিল আইনি বাধা। আর সেই বাধা অতিক্রম করেই দায়িত্ব নিতে হয় রুথকে।
বিশ শতকের শুরুতে মার্কিন আইন অনুযায়ী, কোনো নারী বিদেশি পুরুষকে বিয়ে করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব হারাতেন। তিনবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ানের কন্যা রুথ ব্রায়ান ওয়েনও এক ব্রিটিশ নাগরিককে বিয়ে করেন এবং ১৯১০ সালে নিজের নাগরিকত্ব হারান। পরবর্তী সময়ে ১৯২২ সালের ক্যাবল অ্যাক্ট নারীদের স্বাধীন নাগরিকত্বের অধিকার দিলেও এতে অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। রুথ ১৯২৫ সালে নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার করেন এবং ১৯২৮ সালে ফ্লোরিডা থেকে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হন। যদিও তাঁর নাগরিকত্বের সময়কাল নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে সেটি তিনি কাটিয়ে উঠে সফলভাবে নিজের আসন রক্ষা করেন।
অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ১৯৩০-৩১ সালের আইনি সংশোধনীর মাধ্যমে নারীদের এ বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দেয়। অবশেষে ১৯৩৩ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট রুথ ব্রায়ান ওয়েনকে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত করেন। এই পদে তিনিই ছিলেন প্রথম মার্কিন নারী। পরবর্তীকালে ডেমোক্রেটিক পার্টির এই নেত্রী ফ্লোরিডার এভারগ্লেডস ন্যাশনাল পার্ক তৈরির আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।