কুরাসাওয়ের বিপক্ষে জার্মানির ৭-১ গোলের জয়ের ম্যাচ চলাকালে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) কক্ষে থাকা অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তা শন ইভান্সের একটি হাতের অঙ্গভঙ্গি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রচার ক্যামেরা হঠাৎ ভিএআর স্টুডিওতে কাট হলে তাঁর ডান হাতের একটি ভঙ্গি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়, যেখানে কেউ কেউ সেটিকে ‘হোয়াইট পাওয়ার’ প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
যে অঙ্গভঙ্গিটি নিয়ে বিতর্ক, সেখানে বুড়ো আঙুল ও তর্জনী একত্রে যুক্ত থাকে এবং বাকি তিন আঙুল প্রসারিত থাকে। এটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণভাবে ‘ওকে’ বা সম্মতির ইঙ্গিত হিসেবে ব্যবহৃত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু চরম ডানপন্থী গোষ্ঠী এটিকে ‘হোয়াইট পাওয়ার’ প্রতীক হিসেবেও ব্যবহার করে।
এই ঘটনার পর ফুটবলে বৈষম্যবিরোধী সংস্থা ফেয়ার নেটওয়ার্ক এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের বিশেষজ্ঞদের মতে এই ইঙ্গিতটি স্পষ্টভাবে উল্টো ‘ওকে’ হাতের ভঙ্গির মতো, যা আন্তর্জাতিক চরম ডানপন্থী মহলে ‘হোয়াইট পাওয়ার’ প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সংস্থাটি আরও প্রশ্ন তোলে, ‘ফুটবলের একটি বৈশ্বিক আসরে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্যানেল যখন ক্যামেরার সামনে থাকে, তখন তিনি কেন এমন ইঙ্গিত করলেন? এটি ইচ্ছাকৃতভাবে চরম ডানপন্থী প্রতীক প্রদর্শনের ইঙ্গিত দেয়।’
অন্যদিকে, মানবাধিকার ও বৈষম্যবিরোধী প্রতীক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা অ্যান্টি ডিফামেশন লিগ (এডিএল) বলছে, এই অঙ্গভঙ্গি কিছু ক্ষেত্রে ঘৃণামূলক প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এর ব্যাখ্যায় সতর্কতা প্রয়োজন। সংস্থাটির ভাষ্য, ‘ওকে’ ইশারার দীর্ঘদিনের প্রচলিত অর্থ এবং এর অ-চরমপন্থী ব্যবহারের কারণে উদ্দেশ্য নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
ঘটনাটি প্রথম সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এক পোস্টে বলা হয়, ‘এটি একটি পরিচিত শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ইশারা।’ এরপর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা বাড়তে থাকে এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলেও আলোচনা শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ফিফা) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত। কিন্তু এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি ফিফা।
শন ইভান্স দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রেফারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত। তিনি ২০১৬ সালে পেশাদার রেফারি হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং ২০১৭ সালে ফিফার রেফারি তালিকায় যুক্ত হন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে তিনি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এবারের বিশ্বকাপেও একই ভূমিকায় আছেন।