আটলান্টিক মহাসাগরের ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। মানচিত্রে খুঁজলে সহজে চোখেই পড়ে না। জনসংখ্যা মোটে পৌনে ছয় লাখ। কিন্তু আজ ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই দেশটিতেই চোখ রাখবে বিশ্ব। রাত ১০টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে তারা।
একেবারেই অসম এক লড়াই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে যেখানে স্পেন নিয়মিত দাপট দেখায়, সেখানে কেপ ভার্দে একেবারেই অনাহূত এক অতিথি। তবে এই ম্যাচ শুধু মাঠের লড়াই নয়, এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধও বটে।
ম্যাচটি শুরু হচ্ছে স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায়, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলে বেশ অস্বাভাবিক। সাধারণত খেলোয়াড়েরা সন্ধ্যার দিকে খেলতে অভ্যস্ত। দুপুরে খেলার ধকল সামলাতে স্পেনের খেলোয়াড়দের শরীরের শক্তির মাত্রা ঠিক রাখতে পুষ্টিবিদেরা বিশেষ ডায়েট চার্ট দিয়েছেন। তবে মাঠের লড়াইয়ে শুধু শারীরিক প্রস্তুতিই শেষ কথা নয়, মূল ভূমিকা রাখবে মানসিক দৃঢ়তা।
লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন দল এখন দারুণ ছন্দে রয়েছে। টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত থাকা স্প্যানিশরা তাদের পাসিং ফুটবলের সঙ্গে গতির এক চমৎকার মিশ্রণ ঘটিয়েছে। রদ্রি, পেদ্রি কিংবা মিকেল মেরিনোদের মতো তারকাদের নিয়ে গড়া স্পেনের মাঝমাঠ যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই ডিফেন্স ভেঙে চুরমার করার ক্ষমতা রাখে। তবে মাঠে নামার আগে স্পেনের ড্রেসিংরুমে কোনো অতি-আত্মবিশ্বাস নেই।
মিডফিল্ডার আলেক্স বায়েনা বরং প্রতিপক্ষকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমার সাবেক ভিয়ারিয়াল সতীর্থ লোগান কোস্তা কেপ ভার্দে দলে খেলছে। শারীরিকভাবে ওরা আমাদের ভীষণ বিপদে ফেলতে পারে। আমরা যদি মাঠে আমাদের শতভাগ দিতে না পারি, তবে ওরা বড়সড় একটা ধাক্কা দিতে পারে।’
স্পেনের এই সতর্কতার কারণ কেপ ভার্দের সাম্প্রতিক ফর্ম। প্রস্তুতি ম্যাচে সার্বিয়া ও বারমুডাকে ৩-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে, রূপকথা লিখতেই আটলান্টায় পা রেখেছে তারা। হারানোর কিছু না থাকার এক অদ্ভুত স্বাধীনতা নিয়ে মাঠে নামবে আফ্রিকানরা।
স্পেনের ফুটবলারদের বাজারমূল্য যেখানে আকাশছোঁয়া, সেখানে ইউরোপের নিম্ন সারির লিগে খেলে বেড়ানো একঝাঁক অখ্যাত ফুটবলারই কেপ ভার্দের সম্বল। তবু স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে যার চোখেমুখে অদম্য আত্মবিশ্বাস, সেই তরুণ ডিফেন্ডার সিডনি কাব্রাল হুঙ্কার দিয়ে রাখলেন, ‘আমরা এখানে কোনো সুযোগ নিতে আসিনি। প্রধান লক্ষ্য হলো বিশ্বকে দেখানো যে স্পেনের মতো দলের বিপক্ষেও দারুণ ফুটবল খেলতে পারি। তারা বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হলেও আমরা তাদের বিপক্ষে সেরাটা উজাড় করে দেব।’
একদিকে ইউরো সেরাদের অহংকার ধরে রাখার লড়াই, অন্যদিকে একদল অখ্যাত ‘হাঙর’দের সমুদ্র পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার গল্প। বাস্তবতা বদলে হবে কি কোনো রূপকথা?