২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে থেকেই নানা ইস্যুতে চলছে সমালোচনা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা, সেটা না বললেও চলে। গতকাল মেক্সিকোর তিহুয়ানা বেস ক্যাম্প থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছানোর পর থেকে ইরানের ফুটবলার ও কোচ করে চলেছেন একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ছিল ঘোর অনিশ্চয়তা। এমনকি বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত হলেও ইরানের কয়েকজন সাপোর্টিং স্টাফকে মার্কিন ভিসা না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, সোমালিয়ান রেফারি ওমর আরতানও যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার অনুমতি পাননি। গতকাল লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছানোর পর ইরানের স্ট্রাইকার মেহদী তারেমি সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুধু ইরানই নয়। অন্যরাও এমন ঘটনায় প্রভাবিত হয়েছে। এমনকি রেফারিরাও এর শিকার হয়েছেন। সোমালিয়ান রেফারি ওমর আরতানের ভিসা প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপে পৌঁছানোর পর থেকেই এমন উত্তেজনা অনুভব করেছি। অবশ্যই আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো নয়।’
বিশ্বকাপের আগে যা ঘটেছে, তা বিশ্ব ফুটবলে ভালো বার্তা দেয় না। আগামী বিশ্বকাপে সব দেশের সমর্থকদের জন্য সুন্দর পরিবেশ ফিফা উপহার দিতে পারবে বলে আশা করেন তারেমি। ৩৩ বছর বয়সী ইরানি এই ফরোয়ার্ড বলেন, ‘এ ধরনের উত্তেজনা বিশ্বকাপের আমেজ নষ্ট করে দেয়। ফিফা ও আমাদের মানুষের বার্তাকেও ক্ষুণ্ন করে, যে ফিফার মূল কথা হলো ফুটবল এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা, সেই বার্তারও লঙ্ঘন হয়েছে। আমার মতে এই বিশ্বকাপ পরিবেশ আরও ভালো হতে পারত। কিন্তু বাস্তবে তা পারেনি। ভবিষ্যতে সব সমর্থকদের জন্য, তাঁরা যে দলকেই সমর্থন করুন না কেন, পরিস্থিতি আরও ভালো হবে বলে আশা করছি।’
ইরানের পাশাপাশি ইরাক, সেনেগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা ফুটবল দলও এবার ভিসা জটিলতায় পড়েছিল বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বিশ্বকাপের সময় যে আগ্রহ, উচ্ছ্বাস, উদ্দীপনা দেখা যায়, সেটা এবার কমে যাওয়ার অনেক কারণ রয়েছে বলে মনে করেন তারেমি। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে ৩৩ বছর বয়সী ইরানি ফরোয়ার্ড বলেন, ‘আমি জানি বেশ কয়েকটি দেশ ভিসা-সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পও পরিবর্তন করতে হয়েছে। উত্তেজনা বা টানাপোড়েন বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগেও ছিল। সাধারণত মানুষ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে যে অনুভূতি ও উচ্ছ্বাস অনুভব করে, আমার মতে এবার তা অনেক কম ছিল।’
তিহুয়ানার বিশ্বকাপ বেস ক্যাম্প থেকে গতকাল এক জমকালো বিদায়ী সংবর্ধনার মধ্য দিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের উদ্দেশ্যে রওনা হয় ইরান। রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়ার মধ্যে ইস্টার্ন সময়ের বিকেল ৪:১১ মিনিটে বিমানবন্দরের ২৫এল রানওয়েতে তাদের বহনকারী এ৩২০ উড়োজাহাজটি অবতরণ করে। বিমানবন্দর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়াম মাত্র ১৫ মিনিটের দূরত্বে অবস্থিত। এই ভেন্যুতেই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। আগামীকাল বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায় শুরু হবে ইরান-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ।
এই লস অ্যাঞ্জেলেসেই ভেন্যুতে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে ইরান। ২১ জুন মুখোমুখি হবে বেলজিয়াম-ইরান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ ইরান খেলবে আরেক ভেন্যুতে। ২৭ জুন সিয়াটলে মুখোমুখি হবে ইরান-মিসর।