২৪ বছর আগের রাতটা কি এখনো তাড়া করে ফ্রান্সকে? যেদিন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের স্তব্ধ করে দিয়েছিল নবাগত সেনেগাল। আজ নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রাত ১টায় যখন আবার সেনেগালের মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স, তখন পুরোনো সেই ক্ষতের আলোচনা ফিরে আসাটাই স্বাভাবিক।
তবে ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশম অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে রাজি নন। আমেরিকার তপ্ত আবহাওয়ায় এই ম্যাচকে তিনি দেখছেন সম্পূর্ণ নতুন এক লড়াই হিসেবে। দেশমের বর্তমান দলের অনেকেই ২০০২ সালে জন্মও নেননি। শেষ মিশনে এসে ফরাসি কোচের লক্ষ্য এবার টানা তৃতীয়বারের মতো ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলা, যা এর আগে কেবল পশ্চিম জার্মানি ও ব্রাজিল করে দেখাতে পেরেছে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে, ব্যালন ডি’অরজয়ী উসমান দেম্বেলের মতো তারকাকে নিয়ে ফেবারিট হিসেবেই মিশন শুরু করছে লে ব্লুজরা। গত দুই বিশ্বকাপে ১২ গোল করে পেলের পাশে বসা এমবাপ্পের সামনে এবার মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভাঙার হাতছানি। প্রথম ম্যাচের স্নায়ুর চাপ কতটা মারাত্মক হতে পারে, তা অবশ্য স্মরণ করিয়ে দিলেন দেশম। গতকাল ফ্রান্স কোচ বলেন, ‘এখানে প্রতিশোধের কোনো বিষয় নেই, সেটা ২৪ বছর আগের ঘটনা। এখন আমাদের সম্পূর্ণ নতুন একটি অধ্যায় লেখার সময়। সেনেগাল খুব ভালো মানের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দারুণ এক দল। মাঠের লড়াইটা মূলত শক্তির হতে যাচ্ছে এবং আমাদের প্রথম ম্যাচের গুরুত্ব ও আবেগীয় দিকটি নিখুঁতভাবে সামলাতে হবে।’
আফ্রিকার দলগুলোর বিপক্ষে গ্রুপপর্বে ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান মোটেও স্বস্তির নয়। গত চার বিশ্বকাপের তিনটিতেই আফ্রিকান প্রতিপক্ষের কাছে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাদের। সেনেগাল কেবল অতীতের সেই এক জয়েই তৃপ্ত থাকতে চায় না। বাছাইপর্বে অপরাজিত থেকে আসা দলটির লক্ষ্য এবার আরও উঁচুতে। অথচ আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন হয়েই এবার বিশ্বকাপে পা রাখার কথা ছিল তাদের। সেই শিরোপা একপ্রকার কেড়েই নেওয়া হয়েছে। সেই আক্ষেপ বিশ্বকাপ দিয়ে মেটাতে চায় তারা। সাদিও মানের অভিজ্ঞতা আর ইলিমান নিয়ায়ের গতি সেই আত্মবিশ্বাসই জোগাচ্ছে।
ফ্রান্সে জন্ম ও বেড়ে উঠলেও ফরাসি জাতীয় দল যাঁকে কখনো টানেনি, সেই এভারটন ফরোয়ার্ড নিয়ায়েরের চোখেমুখে এখন কেবলই সেনেগালিজ জার্সির গৌরব। প্রথম ম্যাচেই ফ্রান্সকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়াকে তিনি দেখছেন নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সেরা মঞ্চ হিসেবে। এনদিয়ায়ে বলেন, ‘ফরাসি দল আমাকে কখনো নিজের স্বপ্নের মতো করে টানেনি, ওটা আমার গল্প ছিল না। বিশ্বকাপের ড্রয়ের পর আমরা সবাই এই ম্যাচের জন্যই মনে মনে অপেক্ষা করছিলাম। আমরা এখন বিশ্বের যেকোনো দলের চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে পারি। আমাদের লক্ষ্য এবার কেবল ফ্রান্সকে হারানো নয়, আমরা ট্রফিটা আফ্রিকায় নিয়ে যেতে চাই।’
২০২৫ সালের জুনে ইংল্যান্ডকে তাদেরই মাটিতে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেনেগাল দেখিয়েছে, বড় মঞ্চে তারা কতটা ভয়ংকর। তবে তেরাঙ্গার সিংহদের মূল ভাবনার জায়গা তাদের রক্ষণভাগ; কারণ, ২০০২ সালের ওই ম্যাচের পর বিশ্বকাপে খেলা পরবর্তী ১১ ম্যাচের একটিতেও তারা ক্লিনশিট রাখতে পারেনি। এমন পরিসংখ্যান দেখে মনে মনে হয়তো খুশিই হবেন এমবাপ্পে-দেম্বেলেরা।
ফ্রান্স-সেনেগাল পরিসংখ্যান
ফ্রান্স সেনেগাল ড্র
০ ১ ১
কিলিয়ান এমবাপ্পে
ফরাসি ফুটবলের পোস্টার বয় কিলিয়ান এমবাপ্পে এবারও লে ব্লুজের ট্রফি জয়ের প্রধান আশা। গত দুই বিশ্বকাপে ১২ গোল করে ইতিমধ্যেই তিনি কিংবদন্তি পেলের পাশে বসেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের সামনে এবার সুযোগ মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বকালীন রেকর্ড ছোঁয়ার। গতি আর ক্ষুরধার ফিনিশিংয়ে দলকে টানা তৃতীয় ফাইনালে তোলাই এখন তাঁর মূল লক্ষ্য।
সাদিও মানে
গতি, অভিজ্ঞতা আর লড়াকু মানসিকতা নিয়ে এটিই সম্ভবত সাদিও মানের ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ আসর। মাঠের ফুটবল ও ডাগআউটে তাঁর উপস্থিতিই তেরাঙ্গার সিংহদের মূল চালিকাশক্তি। ফরাসি রক্ষণদুর্গ ভেঙে আফ্রিকার ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চের চূড়ায় নিয়ে যাওয়ার বড় স্বপ্ন এখন এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডের কাঁধে।