মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থার কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পরও ভারত ছাড়তে পারেনি জিম্বাবুয়ে। এবার একই অবস্থা হলো ওয়েস্ট ইন্ডিজের। আন্তর্জাতিক আকাশপথে নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে আটকা পড়েছে শাই হোপের দল। ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লুআই) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে বিদায় নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাঁচা-মরার ম্যাচে ভারতের কাছে ৫ উইকেটে হেরে যায় ২০১২ ও ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা। নিজেদের দলকে যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি), সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং এয়ারলাইন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে সিডব্লুআই।
সিডব্লুআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা ও নিরাপত্তা হুমকির কারণে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রুটে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বহু দেশের বিমান চলাচলে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন এয়ারলাইন তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট সূচি পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে, যার ফলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের যাত্রাও পিছিয়ে গেছে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং চূড়ান্ত ভ্রমণ সূচি নিশ্চিত হলেই নতুন করে আপডেট জানানো হবে। এ সময় ভক্ত, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিডব্লুআই স্পষ্ট করেছে, খেলোয়াড়, কোচ ও কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও সুস্থতাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বর্তমানে দলটি ভারতে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে এবং সবাই সুস্থ আছেন।’
চলমান পরিস্থিতি নিয়ে অবগত আইসিসি। নিজেদের অবস্থান থেকে কাজ করে যাচ্ছে ক্রিকেটের শীর্ষ সংস্থাটি। আইসিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কটের সঙ্গে টুর্নামেন্ট (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ) পরিচালনার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে আইসিসি স্বীকার করছে যে বিপুল সংখ্যক কর্মী—যার মধ্যে খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, ম্যাচ অফিশিয়াল, ব্রডকাস্ট টিম এবং ইভেন্ট স্টাফ রয়েছেন—তারা ইভেন্টে তাদের দায়িত্ব শেষ করে নিজ দেশে ফেরার জন্য ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের হাব বিমানবন্দরগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ইউরোপীয়, দক্ষিণ এশীয় এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় হাবগুলোর মাধ্যমে সংযোগসহ বিকল্প রুটিং অপশনগুলো শনাক্ত ও নিশ্চিত করতে প্রধান আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলোর সঙ্গে কাজ করছে আইসিসি ট্রাভেল এবং লজিস্টিকস টিম।’