তিন বছর ধরে কারাবন্দী ইমরান খান। সবশেষ তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর ডান চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়ার খবর শোনা গেছে। তবে তাঁর ছেলেরা জানিয়েছেন, এখন তিনি মানসিকভাবে অনেক শক্তিশালী।
২০২২ সাল থেকে ইমরানের সঙ্গে তাঁর ছেলেরা দেখা করতে পারছেন না। এখনো তাঁরা পাকিস্তানে যাওয়ার ভিসা পেতে অপেক্ষা করছেন। কদিন আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমসে’ মাইকেল আথারটনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইমরানের ছেলে সুলায়মান ইসা খান বলেন, ‘তিনি এরই মধ্যে অনেকবার বিপদের মুখোমুখি হয়েছেন। কয়েক বছর আগে তাঁকে গুলি করা হয়েছিল। আমি বলব না যে আপনি কখনো এসবের সঙ্গে পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে যান। তবে এমন পরিস্থিতি সামলাতে মানসিকভাবে কিছুটা শক্তিশালী হয়ে ওঠেন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, ‘নীতির ব্যাপারে আপস করার চেয়ে কারাগারে মারা যেতেই আমি পছন্দ করি।’’
ইমরান খানের অসুস্থতার খবর শুনে কদিন আগে সুনীল গাভাস্কার, ইয়ান চ্যাপেল, গ্রেগ চ্যাপেল, আথারটনরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। আথারটনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইমরানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন আরেক ছেলে কাসিম খান। তবে ৭৩ বছর বয়সেও পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক এ ব্যাপারে তেমন একটা চিন্তিত নন। কাসিম বলেন, ‘‘আমরা বাবার শারীরিক অবস্থার ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলাম। তিনি হেসেই উড়িয়ে দেন। শুধু বলেছেন, ‘ওকে।’ দৃষ্টিশক্তি আগের চেয়ে ভালো হয়েছে।’’
ইমরানকে মানসিকভাবে দুর্বল করতে কারা কর্তৃপক্ষ অনেক ধরনের কৌশল অবলম্বন করছে বলে জানিয়েছেন ছেলে কাসিম খান। তাঁর সেলে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে। কাসিমের মতে ইমরান তাতে মানসিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম কয়েক দিন বাবার জেলজীবন খুব কঠিন ছিল। এখন তিনি নিয়মিত মেডিটেশন বা ধ্যান করেন। নির্যাতনই তাঁকে টিকে থাকার শক্তি জুগিয়েছে।’
১৯৯২ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইমরানের নেতৃত্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাকিস্তান। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শিরোপা উঁচিয়ে ধরার ম্যাচটাই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। রাজনীতি নয়, বরং ইমরান ক্রিকেটের সঙ্গেই থাকবেন বলে আশা করেছিলেন ছেলে সুলাইমান। আথারটনকে তিনি (সুলাইমান) বলেন, ‘ছোটবেলায় চেয়েছিলাম রাজনীতি ছেড়ে বাবা ক্রিকেট বিশ্লেষক হবেন। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পেরেছি, ঝুঁকি না নিলে বড় কিছু অর্জন করা যায় না।’
ইমরান খানের মতো তাঁর স্ত্রী বুশরার শারীরিক অবস্থাও ভালো না। হাসপাতালে আছেন তিনি। বুশরা যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলে দাবি পাকিস্তানের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের। কারাগারে বন্দী থাকা ইমরান সম্প্রতি তাঁর ছেলে কাসিমের মাধ্যমে এসব অভিযোগ করেন। ঈদের সময় পারিবারিক আলাপচারিতার পর ইমরানের এসব বক্তব্য প্রকাশ্যে আসে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের উদ্ধৃতি অনুযায়ী ইমরান বলেন, ‘এই দেশের (পাকিস্তানের) বিচারকদের লজ্জিত হওয়া উচিত। আমরা বারবার বিচার বিভাগের কাছে গেছি, কিন্তু তারা নিজেদের স্বার্থে বিক্রি হয়ে গেছে। তারা জানে আমাকে ভাঙতে পারবে না, তাই আমার স্ত্রীকে লক্ষ্য করছে। শুধু আমাকে ব্ল্যাকমেল করার জন্য বুশরা বিবির সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ কীভাবে সম্ভব? তাকে (বুশরা বিবি) সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। সপ্তাহে মাত্র ৩০ মিনিট দেখা করার অনুমতি দেওয়া হয়। সেটাও আবার অনেক সময় দেওয়া হয় না।’ ২০১৮ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান।