অস্ট্রেলিয়ায় সবশেষ অ্যাশেজে ভরাডুবি হয়েছে ইংল্যান্ডের; ৪-১ ব্যবধানে হেরে যায় সফরকারীরা। এমন ব্যর্থতার পরও টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে বেন স্টোকসের ওপরই আস্থা রেখেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। বোর্ডের আস্থার প্রতিদান দিতে ভুল থেকে শিক্ষা নিতে চান তারকা অলরাউন্ডার।
দলের ব্যর্থতার মতো সবশেষ অ্যাশেজে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি স্টোকস। বল হাতে ১৫ উইকেট নেন তিনি। এ ছাড়া ব্যাট হাতে ১০ ইনিংসে করেন ১৮৪ রান। এমন একটি অ্যাশেজ শেষে গত কয়েক মাসকে নিজের অধিনায়কত্বের সবচেয়ে বাজে সময় বলে আখ্যা দিয়েছেন স্টোকস। একই সঙ্গে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ বার্তায় স্টোকস লিখেছেন, ‘ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হওয়া একজন খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ সম্মানের বিষয়—আমি কখনোই এটাকে হালকাভাবে নিই না। এতে যেমন আনন্দের মুহূর্ত আছে, তেমনি কঠিন সময়ও আছে; কখনো হাসায়, আবার কখনো কাঁদায়। এটা আপনাকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলে—অনেক সময় মনে হয় এটাই আপনার জীবনের একমাত্র বিষয়। গত তিন মাস নিঃসন্দেহে আমার অধিনায়কত্বের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। এটা আমাকে নানা দিক থেকে পরীক্ষা নিয়েছে, আমি নিশ্চিত অন্য অধিনায়করাও এমন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন।’
নিজেদের ভুল স্বীকার করে স্টোকস লিখেছেন, ‘বাজ (ম্যাককালাম; প্রধান কোচ), রব (রব কি; ম্যানেজিং ডিরেক্টর) এবং আমি—আমাদের সবারই এই দলকে এগিয়ে নেওয়ার প্রবল ইচ্ছা ও আবেগ আছে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দেব। পথে ভুল হয়েছে, কিন্তু আমরা সেই ভুল থেকে শিখেছি। আসলে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতা থেকেই বেশি শেখা যায়।’
ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্ব করাটা অনেক বেশি গর্বের স্টোকসের জন্য, ‘আমি নিজের সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—আমি সত্যিই ক্রিকেটকে ভালোবাসি, এই দলকে ভালোবাসি, আর ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হতে পারাটা আমি ভীষণ ভালোবাসি। এই ভূমিকায় দেওয়ার মতো আমার আরও অনেক কিছু আছে, আর বাজ ও রবের সঙ্গে এটা করতে পারছি বলে আমি খুবই খুশি।’
চলতি বছরের জানুয়ারিতে অ্যাশেজের পঞ্চম টেস্টের পর আর মাঠে নামেননি স্টোকস। কঠিন সময়ে সমর্থন দেওয়ার জন্য ভক্তদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি, ‘আমরা প্রতিটি সমর্থকের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা যা করি, তার অন্যতম কারণ হলো আমাদের সমর্থকদের আনন্দ দেওয়া এবং গর্বিত করা—ভবিষ্যতেও আমরা সেটাই করার চেষ্টা করব। টেস্ট ম্যাচ সামারের শুরুতে জুনে আবার দেখা হবে।’