জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে বর্তমান সরকার ও বিএনপি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। বিষয়টিকে তিনি রাজনৈতিক ‘দ্বিচারিতা’ হিসেবেও আখ্যা দেন।
আজ সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে কক্সবাজার বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল এসব মন্তব্য করেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সহস্রাধিক প্রাণ আর হাজারো মানুষের পঙ্গুত্বের বিনিময়ে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, সরকার গঠন করার পর সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার করেছিল, এখন তারা সেখান থেকে সরে এসে ভিন্ন পথে হাঁটছে।’
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘জুলাই সনদকে চ্যালেঞ্জ না করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও পরোক্ষভাবে একটি পক্ষকে দিয়ে আদালতে রিট করিয়ে বিষয়টিকে “সাব-জুডিস” বা বিচারাধীন করা হয়েছে। সরকারের পরোক্ষ মদদে এটি করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। একদিকে জনগণের কথা বলা, অন্যদিকে নেপথ্যে ভিন্ন কৌশল নেওয়া—একে দ্বিচারিতাই বলা হয়।’
গণভোট প্রসঙ্গ মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের চেয়ে গণভোটের পক্ষে জনসমর্থন বেশি। আইন মানুষের জন্য, মানুষ আইনের জন্য নয়। তাই পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে জুলাই সনদকে অস্বীকার করা গণতন্ত্রকামী দলের কাজ হতে পারে না।’
জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বর্তমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিন এবং জুলাই জাতীয় সনদকে প্রেসিডেনশিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করুন। এটাই এখন সংকট নিরসনের একমাত্র পথ। সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কি সমাধান পার্লামেন্টে করবে, না কি জনগণকে আবারও রাজপথের আন্দোলনে ঠেলে দেবে।’
জামায়াতে ইসলামী একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে সংসদে এবং রাজপথে জনগণের পক্ষে ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ সময় বিমানবন্দরে জেলা জামায়াতের নেতা-কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান।