বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেন, ‘অনেকে আতঙ্কিত হয়ে বাড়তি তেল সংগ্রহ করছেন। যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা রয়েছে বিধায় রেশনিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
আজ শনিবার (৭ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় কালে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, গতকালকেও বলেছি, আজকেও বলছি, তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নাই। আমরা রেশনিংটা করেছি এইজন্যই, যে যুদ্ধ শেষ হওয়া নিয়ে একটা অনিশ্চয়তা আছে। সেজন্য আমরা একটা রেশনিং করেছিলাম। কিন্তু মানুষ এই রেশনিংটাকে ভয় পেয়ে স্টক করা শুরু করেছে। আসলে আমাদের তেলের কোনো অভাব নাই।’
ঢাকাসহ সারাদেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখন দিন-রাত হাজার হাজার যানবাহন অপেক্ষা করছে। তেল কেনার বাড়তি চাপের কারণে অনেক ফিলিং স্টেশনেই তেল শেষ হয়ে যেতে দেখা গেছে। মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারসহ আরও কয়েকটি যানবাহনের দৈনিক তেল উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার।
মন্ত্রী বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে পৃথিবীতে যে সমস্যাটা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বাভাবিকভাবে মানুষের মাঝে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে বসেছিলাম এবং ওনাকে ব্রিফ করলাম।’
বাংলাদেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি তেলের মজুতের কোনো সংকট নেই জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আগামী ৯ মার্চ আরও ২টা ভ্যাসেল আসছে, সুতরাং তেলের কোনো সমস্যা নাই।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি সবার কাছে অনুরোধ করব, এই তাড়াহুড়া করে তেল কেনার দরকার নাই। আমরা পেট্রোল পাম্পে তেল দিচ্ছি এবং চলবে, এটার জন্য লাইন দিয়ে সারারাত জাগার কোনো প্রয়োজন নাই। সাধারণভাবে পাম্পে গেলে তেল পাওয়া যাবে।’
কিছু কিছু পাম্পে তেল না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা তো নির্দিষ্ট পরিমাণে তেল দিচ্ছি। এখন কোনো পাম্প যদি জলদি বিক্রি করে ফেলে তারপরে তো আর পাবে না, তার পরের দিন ওয়েট করতে হবে। সেটার জন্য আমরা মনিটর করছি। আমরা দেখব যাতে এরকম না হয়।’