বিশ্বব্যাপী স্বল্পমূল্যের কৃত্রিম তন্তুর সহজলভ্যতা ও ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে পাটজাত পণ্য বিশ্ববাজারে হুমকির মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের প্রশ্নের জবাবে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপন করা হয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে পাট পণ্য রপ্তানিতে উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনার পাশাপাশি কিছু চ্যালেঞ্জ অবশ্যই রয়েছে। যার মধ্যে—বিশ্বব্যাপী স্বল্পমূল্যের কৃত্রিম তন্তুর সহজলভ্যতা ও ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে পাটজাত পণ্য বিশ্ববাজারে হুমকির মধ্যে পড়েছে। অধিকাংশ পাটকলে পুরোনো প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।
মন্ত্রী বলেন, ‘দেশে আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব টেস্টের সুবিধা না থাকার কারণে রপ্তানিকারকেরা পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছেন। পাটজাত পণ্যের নতুন বাজার অনুসন্ধান ও ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমে এখনো আমরা পিছিয়ে রয়েছি।’ তবে মন্ত্রী প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের নানান উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের ১ জুলাই সরকারি সিদ্ধান্তে বিজেএমসির আওতাধীন ২৫টি মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং ২০টি মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা ভিত্তিতে পুনঃ চালুর সিদ্ধান্ত হয়। তৎ প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা সম্পাদন করা হয়েছে; যার মধ্যে ৯টি মিল চালু করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬টি মিল ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে। বাকি মিলগুলোও সরকার ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি বছরের ডিসেম্বরের চালু করার আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকারিভাবে দেশে নতুন কোনো পাটকল স্থাপনের পরিকল্পনা নেই বরং সরকারি নীতি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে এই খাতে বেসরকারিখাতের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বলেন, সোনালী আঁশ পাটশিল্পের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি এ মাসের ৩০ জুন সমাপ্ত হবে। পরবর্তীতে একই ধরনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন প্রকল্প রাজস্ব বাজেটের আওতায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।