মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে সৌদি আরবে নিহত বাংলাদেশি কর্মী আব্দুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। আজ সোমবার সকাল পৌনে ১০টায় সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে মরদেহটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে সেটি গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
এর পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭ জন বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। আরেকজনের মরদেহ তাঁর পরিবারের সম্মতিতে সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিহতের পরিবারের পাশে সরকার রয়েছে। ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে দাফনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা ও নগদ ৫০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ৩ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদ আলম সিয়াম, মহাপরিচালক (কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার) দেওয়ান আলী আশরাফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আব্দুল্লাহ আল মামুন আল সৌদি আরবের তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির অধীনে কাজ করতেন। গত ৮ মার্চ ইফতারের আগমুহূর্তে সৌদির আল খারিজ শহরে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে মিসাইল বিস্ফোরণে আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ আরও কয়েকজন বাংলাদেশি হতাহত হন। তবে বিস্ফোরণে তাঁর শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় মামুনকে দ্রুত স্থানীয় সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত ১৭ মার্চ স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আব্দুল্লাহ আল মামুন এক সন্তানের জনক। তাঁর বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর গ্রামে।