মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশি নাগরিক জোবাইদুল আমিনকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরপর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের মতে, এটি অনলাইনে শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনায় আলাস্কায় পরিচালিত এযাবৎকালের মধ্যে সবচেয়ে বড় অভিযান।
তদন্তকারীদের ভাষ্য, এই মামলার কেন্দ্রে কেবল একজন অপরাধী নন; বরং এটি একটি সমন্বিত অনলাইন যৌন ব্ল্যাকমেল চক্র, যা একাধিক দেশে বিস্তৃত এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের লক্ষ্যবস্তু করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে।
তদন্তের সূচনা
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার ফেডারেল আদালতে যে মামলাটি চলছে, সেটি হঠাৎ করেই শুরু হয়নি। ২০২১ সালের শেষ দিকে এটি শুরু হয়। প্রথমে এটি একটি একক অনলাইন নিপীড়নের ঘটনার মতো মনে হয়েছিল।
ওই বছরের ডিসেম্বরে আলাস্কার এক কিশোরী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। কারণ, অনলাইনে পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে হুমকি দিতে শুরু করেছিল এই বলে যে যদি সে তার আরও দাবি মেনে না নেয়, তবে তার ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠ ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
প্রথমে এটি একটি বিচ্ছিন্ন কিন্তু উদ্বেগজনক ঘটনা বলে মনে হলেও, তদন্তকারীরা যখন বার্তাগুলোর ডিজিটাল সূত্র অনুসরণ করতে শুরু করেন, তখন ঘটনাটি দ্রুত বড় আকার ধারণ করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্ল্যাটফর্ম এবং ক্লাউড স্টোরেজ সেবাদাতাদের কাছে পাঠানো আইনি নোটিশের মাধ্যমে পাওয়া তথ্য থেকে বোঝা যায়, বিষয়টি কেবল একজন ভুক্তভোগীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং তদন্তকারীরা ধীরে ধীরে এমন একটি বড় অনলাইন নিপীড়ন চক্রের সন্ধান পান, যার ভুক্তভোগী বিভিন্ন অঞ্চলের বহু মানুষ।
২০২২ সালজুড়ে ফেডারেল তদন্তকারীরা যখন ডিজিটাল প্রমাণ একত্র করতে থাকেন, তখন মামলার পরিধি নাটকীয়ভাবে বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই মামলায় আলাস্কা, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিকভাবে অবস্থানরত শত শত অপ্রাপ্তবয়স্ক ভুক্তভোগীকে নিপীড়নের অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের বয়স সাধারণত ১৮ বছরের নিচে। এমনকি কারও কারও বয়স মাত্র ১১ বছর।
তদন্ত শেষ পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায় বাংলাদেশি নাগরিক জোবাইদুল আমিনের কাছে। তাঁর বয়স ২৮ বছর। অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন এবং একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে, জোবাইদুল আমিনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বহু অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট পাওয়া গেছে, যেগুলোর মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো। এই অনলাইন প্রোফাইলগুলোতে জোবাইদুল আমিন বিভিন্ন ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করতেন। কখনো তিনি নিজেকে সমবয়সী ছেলে হিসেবে পরিচয় দিতেন, আবার কখনো মেয়ের পরিচয় নিতেন। কিছু ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে সমকামীও দাবি করতেন, যাতে ভুক্তভোগীদের আস্থা অর্জন সহজ হয়।
২০২২ সালের ১৩ জুলাই আলাস্কার একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি জোবাইদুল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। কয়েক মাস পর, ওই বছরের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীদের সহযোগিতায় জোবাইদুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে।
এরপর কয়েক বছর ধরে মামলাটি মূলত জনসমক্ষে খুব বেশি আলোচনায় আসেনি। কারণ, এ সময় মালয়েশিয়ায় আইনি প্রক্রিয়া চলছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র জোবাইদুলকে আদালতে হাজির করতে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার চেষ্টা করছিল।
এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পরিণতি ঘটে চলতি মার্চে। সম্প্রতি জোবাইদুলকে মালয়েশিয়া থেকে আলাস্কায় পাঠানো হয়, যাতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন।
ফেডারেল আদালতে প্রথম হাজিরায় জোবাইদুল নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে নির্দোষ দাবি করেছেন। তবে অভিযোগপত্র এবং সংশ্লিষ্ট আদালতের নথি থেকে যে তথ্য উঠে এসেছে, তা ইঙ্গিত দেয়—অভিযোগগুলো কেবল একজন অপরাধী এবং অল্প কয়েকজন ভুক্তভোগীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
আদালতের নথি
অভিযোগগুলো আলাস্কায় মার্কিন ফেডারেল আদালতে দাখিল করা একটি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধের কথা বলা হয়েছে। জোবাইদুলের বিরুদ্ধে মোট ১৩টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ হলো কাউন্ট ৩-‘শিশু নিপীড়ন চক্র’।
মার্কিন ফেডারেল আইনে এই অভিযোগ কেবল তখনই আনা যায়, যখন প্রসিকিউটররা মনে করেন যে একাধিক ব্যক্তি সংগঠিতভাবে একটি নিপীড়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন।
তবে জনসমক্ষে প্রকাশিত আদালতের নথিতে অভিযোগপত্রে উল্লেখিত জোবাইদুল আমিনের সহযোগীদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কতজন ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন, সেই প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে।
এ ছাড়া জোবাইদুলের বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরির ষড়যন্ত্র (কাউন্ট ১) এবং শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরির (কাউন্ট ৪) গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে অপরাধসংক্রান্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার একটি ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সাধারণত, দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সম্পদ রাষ্ট্র জব্দ করতে পারে।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, এই অপরাধ দীর্ঘ সময় ধরে সংঘটিত হয়েছে এবং এতে অপ্রাপ্তবয়স্কদের লক্ষ্য করে অনলাইন প্রভাব খাটানো, চাপ প্রয়োগ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, গ্র্যান্ড জুরির কাছে অজানা একটি তারিখ থেকে শুরু করে জোবাইদুল আমিন এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তি—যাদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি বা তদন্তকারীরা পুরোপুরি জানাননি—ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের প্রতারণা, চাপ ও ব্ল্যাকমেলের মাধ্যমে নিজেদের যৌন উত্তেজক ছবি তৈরি করতে বাধ্য করতেন।
অভিযোগপত্রের ভাষা থেকে বোঝা যায়, এটি কোনো একক ব্যক্তির কাজ ছিল না; বরং একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্কের অংশ ছিল—যার প্রকৃত পরিধি তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে আরও স্পষ্ট হতে পারে।
অভিযোগ অনুযায়ী কার্যপদ্ধতি
অভিযোগপত্রে কথিত এই চক্র কীভাবে কাজ করত, তার একটি বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে প্রতারণা, দ্রুত চাপ সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ভয়ভীতির একটি কৌশলগত পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আমিনের প্রথম যোগাযোগ সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম, যেমন—ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে হতো।
প্রসিকিউটরদের মতে, জোবাইদুল প্রায়ই নিজেকে কিশোর হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং অ্যাকাউন্টগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য দেখাতে প্রকৃত কিশোরদের ছবি ব্যবহার করতেন। কিছু ক্ষেত্রে তিনি নিজেকে কিশোরী পরিচয় দিতেন এবং যৌনতা বা সম্পর্ক নিয়ে আলাপ শুরু করে ধীরে ধীরে কথোপকথনকে ঘনিষ্ঠ ছবি চাওয়ার দিকে নিয়ে যেতেন।
তদন্তকারীদের মতে, এই পদ্ধতিটি মূলত মানসিক প্রভাব খাটানোর ওপর নির্ভর করত। ভুক্তভোগীরা প্রায়ই বিশ্বাস করত যে তারা তাদেরই সমবয়সী কারও সঙ্গে কথা বলছে—কখনো এমন একজনের সঙ্গে, যে তাদের ব্যক্তিগত সমস্যার সঙ্গে মিল খুঁজে পায়।
কিন্তু একবার কোনো ছবি পাঠানো হলে কথোপকথনের ধরন প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যেত বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, এরপর যদি ভুক্তভোগীরা পরবর্তী দাবি মানতে অস্বীকার করত, তাহলে তাদের ছবি প্রকাশ করার হুমকি দেওয়া হতো। হুমকির সময় অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীর বন্ধু বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুসারীদের কাছে ছবি পাঠানোর কথা বলা হতো।
ভুক্তভোগীদের যোগাযোগ তালিকার স্ক্রিনশট ব্যবহার করে দেখানো হতো যে এই হুমকি বাস্তবেই কার্যকর করা সম্ভব।
আদালতের নথি বলছে, এই হুমকিগুলো সব সময় কেবল তাত্ত্বিক ছিল না। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন ভুক্তভোগীর ছবি সত্যিই তাদের পরিচিতদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। ইনস্টাগ্রামে প্রথম যোগাযোগের পর অনেক সময় ভুক্তভোগীদের স্ন্যাপচ্যাটে কথা চালিয়ে যেতে বলা হতো। সেখানে গিয়ে প্রসিকিউটরদের মতে চাপ ও ব্ল্যাকমেল আরও বাড়ত।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ সময় ধরে বারবার নতুন ছবি বা ভিডিও পাঠাতে বাধ্য করা হতো। আদালতের নথিতে ভুক্তভোগীদের ওপর এই ঘটনার গুরুতর মানসিক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখিত একটি ঘটনায় প্রসিকিউটররা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপে থাকার পর একটি ভিডিও কল চলাকালে এক ভুক্তভোগী নিজেকে আঘাত করেছিলেন। আদালতের নথি আরও ইঙ্গিত দেয়, এই চক্র শুধু ভয়ই দেখাত না, নতুন ভুক্তভোগী সংগ্রহ করাও তাদের লক্ষ্য ছিল।
প্রসিকিউটররা বলেন, কিছু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের বলা হতো—যদি তারা অন্য মেয়েদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় বা নতুন ব্যক্তিদের ছবি সরবরাহ করে, তাহলে হয়রানি বন্ধ করা হবে। এমন এক ঘটনায় দেখা যায়, একজন ভুক্তভোগী চাপ থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় ১৫ জন নতুন মেয়েকে জোবাইদুলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
তদন্তকারীদের মতে, এর ফলে এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল যেখানে অপমানের ভয়ই হয়ে ওঠে নিয়ন্ত্রণের প্রধান অস্ত্র।
কেন তরুণেরা এমন ছবি পাঠায়
এ ধরনের ঘটনায় অনেক পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কেন একজন তরুণ বা কিশোর এমন কাউকে ব্যক্তিগত ছবি পাঠাবে, যাকে সে চেনে না?
তদন্তকারীরা বলেন, এর জবাব প্রায়ই লুকিয়ে থাকে চক্রের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের শুরুতে। অনেক ক্ষেত্রে প্রথম যোগাযোগটি একেবারেই স্বাভাবিক মনে হয়। অপরাধীরা নিজেদের কিশোর বা কিশোরী পরিচয় দেয় এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রোফাইল ও ছবি ব্যবহার করে। কথোপকথন অনেক সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি কয়েক দিন ধরে চলতে পারে—স্কুল, সম্পর্ক, ব্যক্তিগত সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে।
যেসব কিশোর-কিশোরীর বন্ধুত্ব ক্রমেই অনলাইনে গড়ে ওঠে, তাদের কাছে এই যোগাযোগ দ্রুতই পরিচিত ও স্বাভাবিক মনে হতে পারে। ফলে যখন একটি ছবি চাওয়া হয়, তখন সেটি আর অপরিচিত কারও অনুরোধ বলে মনে নাও হতে পারে।
কিশোরদের ডিজিটাল সংস্কৃতিও এখানে ভূমিকা রাখতে পারে। কিছু বন্ধুমহলে ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করা কখনো কখনো বিশ্বাস বা ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। আর অপর প্রান্তের ব্যক্তি যদি সমবয়সী বলে মনে হয়, তাহলে সেই অনুরোধ প্রথমে সন্দেহজনক মনে নাও হতে পারে। মানসিক দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। কৈশোরকাল প্রায়ই অনিশ্চয়তা, একাকিত্ব আর স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় ভরা থাকে। অপরাধীরা এসব সংকেত বুঝতে পারদর্শী এবং নিজেদের সহানুভূতিশীল বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করে।
তদন্তকারীরা বলেন, পরিস্থিতি জোরপূর্বক বা ব্ল্যাকমেলের দিকে মোড় নেওয়ার আগেই অনেক ভুক্তভোগী মানসিকভাবে এই সম্পর্কের মধ্যে আটকে পড়ে।
নেটওয়ার্ক নিয়ে অজানা প্রশ্ন
অভিযোগপত্রে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া ছবি এই অপরাধে জড়িত অন্যদেরও সরবরাহ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে আদালতের প্রকাশিত নথিতে সেই ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান উল্লেখ করা হয়নি।
এতে একটি বড় প্রশ্ন উঠেছে, এই নেটওয়ার্কের পরিধি কত দূর পর্যন্ত বিস্তৃত এবং এতে জড়িত ব্যক্তিরা বাংলাদেশে, বিদেশে নাকি উভয় জায়গায়ই আছেন।
এ ধরনের অন্যান্য মামলায় তদন্তকারীরা প্রায়ই দেখেছেন যে অনলাইন নিপীড়নের নেটওয়ার্ক একাধিক দেশে বিস্তৃত থাকে এবং অপরাধীরা এনক্রিপ্টেড ম্যাসেজিং প্ল্যাটফর্ম ও ক্লাউড স্টোরেজের মাধ্যমে এসব কনটেন্ট নিজেদের মধ্যে শেয়ার করে।
আদালতে আরও তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটি স্পষ্ট নয় যে কতজন ব্যক্তি এই অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়িত বা অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ছবিগুলো কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল।
অতীতের অনলাইন নিপীড়ন চক্রের সঙ্গে তুলনা
অভিযোগপত্রে বর্ণিত কাঠামোটি পর্যবেক্ষকদের কাছে অতীতের কিছু বড় ডিজিটাল নিপীড়নের মামলার কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কুখ্যাত এনথ রুম (Nth Room) কেলেঙ্কারির কথাও উল্লেখ করা হচ্ছে, যেখানে এনক্রিপ্টেড অনলাইন চ্যাটরুম ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের ছবি ও ভিডিও বিতরণ করা হতো। সেই ঘটনায় তদন্তকারীরা শেষ পর্যন্ত এমন একটি নেটওয়ার্কের সন্ধান পান যেখানে একাধিক প্রশাসক, বিতরণকারী এবং হাজার হাজার অংশগ্রহণকারী অবৈধ কনটেন্টে প্রবেশাধিকার পেয়েছিল।
যদিও জোবাইদুল আমিনের মামলার সঙ্গে সরাসরি তুলনা এখনো কর্তৃপক্ষ করেনি, তবু অভিযোগপত্রে অপরাধীর সহযোগী এবং বিপুলসংখ্যক ভুক্তভোগীর উল্লেখ থাকায় তদন্তকারীরা সম্ভবত এই কার্যক্রমের বিস্তৃত ডিজিটাল চিহ্ন এখনো খতিয়ে দেখছেন।
মামলার আইনি অবস্থা
জোবাইদুল আমিনকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়, যেখানে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করছিলেন বলে জানা গেছে।
কয়েক বছর ধরে আইনি প্রক্রিয়া চলার পর সম্প্রতি তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে তিনি সেখানকার আদালতে বিচারের মুখোমুখি হতে পারেন। মার্কিন আদালতে প্রথম হাজিরায় তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। এখন মামলাটি ফেডারেল বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোবে, যেখানে প্রসিকিউটরদের অভিযোগগুলো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে।