ঢাকা থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলগামী, বিশেষ করে জয়পুরহাট, রংপুর, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুর অভিমুখী যেসব ট্রেন আজ বুধবার সন্ধ্যায় বা রাতে ছেড়ে যাবে সেগুলোর সবই দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পেরিয়ে এসেছে। ফলে, এসব গন্তব্যের ট্রেনগুলো ঢাকার কমলাপুর থেকে যথাসময়েই ছাড়বে।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, ঢাকা থেকে আজ বুধবার সন্ধ্যায় ও রাত্রে ছাড়বে এমন সবগুলো ট্রেন দুর্ঘটনার স্থান বা সান্তাহার থেকে বের হয়ে এসেছে। শুধু পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি ‘সেকশন ক্লিয়ার’ না হলে আসতে পারবে না। ফলে বুধবার রাতের চিলাহাটি এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস, কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আজ ঢাকা থেকে সঠিক সময়ে ছাড়া সম্ভব হবে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, তবে যদি দ্রুত উদ্ধার শেষ না হয়, তাহলে মিটারগেজ ট্রেন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসকে সান্তাহার থেকে বিকল্প পথে কুড়িগ্রাম পাঠানো হবে। ঢাকা থেকে বুধবার সকালে ছেড়ে যাওয়া একতা এক্সপ্রেস সান্তাহার পৌঁছে আটকে যেতে পারে। উদ্ধার শেষ না হলে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া দ্রুতযানও পথিমধ্যে আটকা পড়তে পারে। এ ছাড়া, দুর্ঘটনার কারণে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছাড়ার নীলসাগর, একতা এক্সপ্রেস ট্রেন শিডিউল বিলম্ব হতে পারে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, লালমনিরহাট ও রংপুরগামী ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাবে এবং গন্তব্যে পৌঁছাবে। এই রুটের যাত্রীদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ঈদের আর এক দিন বাকি থাকায় গতকাল বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে গত কয়েক দিনের তুলনায় ভিড় দেখা গেছে। অধিকাংশ ট্রেনই ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী নিয়ে ছেড়েছে। কোচের ভেতর ছাড়াও অনেক যাত্রীকে ট্রেনের ছাদেও উঠতে দেখা গেছে।
রেল কর্তৃপক্ষ ছাদে ওঠা ঠেকাতে চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তের চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গতকাল পারাবত, নীলসাগর, একতা, তিস্তা এক্সপ্রেসসহ আরও বেশ কিছু ট্রেনে ছাদে যাত্রী ওঠার দৃশ্য চোখে পড়ে।
ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, দুর্ঘটনা কবলিত নীলসাগর এক্সপ্রেসের বগিগুলো উদ্ধারে জোর তৎপরতা চলছে। তবে এই দুর্ঘটনার প্রভাবে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি মাঝপথে আটকা পড়েছে, যা গন্তব্যে পৌঁছাতে কমপক্ষে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা বিলম্ব হতে পারে। সান্তাহার থেকে চিলাহাটি ও পঞ্চগড় অভিমুখে বর্তমানে সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে দুর্ঘটনাটি নির্দিষ্ট একটি পয়েন্টে হওয়ায় উত্তরবঙ্গের সব রুটে প্রভাব পড়েনি।