বাংলাদেশে ২০০৬ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে ডিজিটাল স্ক্যাম, এমএলএম পঞ্জি স্কিম এবং করপোরেট দুর্নীতির মতো প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ২১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে এমটিএফই এবং বিভিন্ন বিতর্কিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিলিয়ন টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন।
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় আজ সোমবার ‘গ্লোবাল ফ্রড রেসপন্স মেকানিজম’ শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে প্যানেলিস্ট হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানেরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনে অংশগ্রহণ ছাড়াও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগামীকাল মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।
সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে ডিজিটাল জালিয়াতি ও বৈশ্বিক প্রতারণা মোকাবিলার আহ্বান জানান। তিনি এ ক্ষেত্রে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত প্রযুক্তিগত সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির (জিএফআই) প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ট্রেড মিস-ইনভয়েসিং বা বাণিজ্যের আড়ালে ২০০৯-২০১৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। তিনি বলেন, আধুনিক ‘হোয়াইট কলার ক্রাইম’ মোকাবিলায় ১৮৬০ সালের প্রচলিত দণ্ডবিধি বর্তমানে অপর্যাপ্ত, যা সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতারণা রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন। এগুলো হলো প্রতারণার নিত্যনতুন কৌশল বুঝতে ব্যাপক গবেষণা ও কৌশলগত তথ্য আদান-প্রদান; বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার প্ল্যাটফর্মগুলো আরও শক্তিশালীকরণ; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থা চালুকরণ; এবং বিচারিক কাঠামো ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিতকরণ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আর্থিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। তবে অপরাধের বৈশ্বিক প্রকৃতির কারণে আন্তসীমান্ত সহযোগিতা ছাড়া এককভাবে এটি নির্মূল করা সম্ভব নয়।’