‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এ ব্যয় হওয়া অর্থের কারণে ‘মূল্যস্ফীতি’ ঘটলে সে বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে কি না, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমরা তো টাকা ছাপিয়ে দিচ্ছি না (কৃষক ও ফ্যামিলি কার্ড) যে মূল্যস্ফীতি হবে। কাজেই, মূল্যস্ফীতি হবে না, বরং এই টাকা আমরা যাদের দেব, সেইসব কৃষক ও নারী নিশ্চয়ই সিঙ্গাপুর বা বিভিন্ন দেশে পাচার করবেন না। এই টাকা স্থানীয় অর্থনীতিতে ব্যয় হবে। এতে করে লোকাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগ হয়ে অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।’
আজ বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন তারেক রহমান। সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বের প্রথম ৩০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত ছিল।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তাঁর সম্পূরক প্রশ্নে জানতে চান, ‘কত ব্যক্তি ও পরিবারকে কার্ড প্রদান করা হবে? এতে কত বাজেট বরাদ্দ হবে? এটা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মুদ্রাস্ফীতি ও মূল্যস্ফীতির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে সে ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা কী হবে?’
জবাবের প্রথম দিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ খাতে কত বাজেট, তা এখনই বলছি না। পর্যায়ক্রমভাবে এ জিনিসগুলো আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড যাঁরা পাবেন, তাঁরা মাসে আড়াই হাজার টাকা পাবেন। একবারে আমরা সবাইকে দেব না। পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষে একবারে সবাইকে দেওয়া সম্ভবও নয়। আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতি মাসে উপকারভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে থাকব। প্রতিবছরই আমরা বাজেটে বরাদ্দ বাড়াব। এভাবে ধীরে ধীরে আমরা এগোব।’
এরপরই এসব কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থের ব্যবহারক্ষেত্র ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর ভূমিকা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। জবাবের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের কোনো গবেষণা বলছে না মূল্যস্ফীতি হবে, বরং অর্থনীতি শক্তিশালী হবে, প্রান্তিক গোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানের উন্নতি হবে।’
পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ বি এম মোশাররফের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান জানান, গত ১০ মার্চ দেশের ১৩টি জেলার তিনটি সিটি করপোরেশন বা ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারের নারী প্রধানকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বাকি তিন মাসে আরও ৩০ হাজার পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।
এই সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেসব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখার কথা জানান তারেক রহমান। এ সময় বিরোধী দলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রকম কমিটমেন্ট করেছিল। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম টিকিটও বিলি করেছিল। তবে, বিএনপির প্রতি জনগণ যে সমর্থন দিয়েছে, তাতে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়—ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ সকল পরিকল্পনার প্রতি মানুষের সমর্থন রয়েছে। দেশের মানুষ জাতীয়তাবাদী দলের ওপর আস্থা রেখেছে।’